কালের কাগজ ডেস্ক :০৮ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার ।

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নাইকো দুর্নীতির ঘটনায় ওনার নামে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তো একটা মামলা হয়েছে। কাউকে সেভ করবেন আর কাউকে বলি দেবেন এটা ঠিক না। ন্যায় বিচারের জন্য ওনাকে আদালতে হাজির করা হোক।

আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নং বিশেষ জজ মাহমুদুল কবিরের আদালতে শুনানি চলাকালে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

১১টা ৩৭ মিনিট : এদিন সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ মাস ২ দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়।

১১টা ৪৭ মিনিট : ১১টা ৪৭ মিনিটে কারাগারের গেট থেকে হুইল চেয়ারে করে এজলাস কক্ষে আনা হয় খালেদা জিয়াকে।

১১টা ৫০ মিনিট : বিচারক ১১টা ৫০ মিনিটে এজলাসে উঠেন। এসময় মামলার আসামি সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনটি নামঞ্জুর করে শুনানি করতে বলেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, এখানে মামলা পরিচালনার কোনো পরিবেশ নেই। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা ছেড়ে এসেছি। তখন বিচারক বলেন, আজ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যাবে না। এই মামলাটি শেষ করতে হবে।

এরপর মওদুদ নিজের পক্ষে শুনানি শুরু করেন। শুনানিতে তিনি মামলার এজাহার পড়েতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি এ ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে তা বলেন। বিচারক তখন বলেন, এটা আপনার অংশ নয়।

তখন খালেদা জিয়া বলেন, নাইকো দুর্নীতির ঘটনায় ওনার নামে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তো একটা মামলা হয়েছে। কাউকে সেভ করবেন আর কাউকে বলি দেবেন এটা ঠিক না। ন্যায় বিচারের জন্য ওনাকে আদালতে হাজির করা হোক। তখন বিচারক খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ঐ মামলাটি তো শেষ হয়ে গেছে।

১২টা ৫৫ মিনিট : ১২টা ৫৫ মিনিটে মওদুদ বিচারককে বলেন, আজ একটু সময় চাচ্ছি। আর শুনানি করতে পারছি না।

এসময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আপনার জন্য মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগছে। আপনি বার বার সময় নিচ্ছেন। আদালতে বলেন অসুস্থ আর বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন। আজকেই আপনাকে শুনানি শেষ করতে হবে। এবং খালেদা জিয়ার পক্ষেও আজ শেষ করতে হবে।

১টা ১০ মিনিট : উভয় পক্ষের শুনানির এক পর্যায়ে ১টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া বলেন, আমি আর বসে থাকতে পারছি না। হাসপাতাল থেকে সরাসারি আমাকে এখানে আনা হয়েছে। বসে থাকতে আমার কষ্ট হচ্ছে।

১টা ১৫ মিনিট : দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিচারক বলেন, ঠিক আছে একটা সময় দিচ্ছি। সে দিন আপনার ও খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি শেষ করতে হবে। বিচারক ১৪ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরপর বিচারক এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিচারক এজলাস ত্যাগ করার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই মিনিটের মতো কথা বলেন। এরপর খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

খালেদার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি মেলেনি ফখরুলের

আদালতের ভেতরে খালেদা জিয়ার সাথে ৩০ মিনিট কথা বলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। শুনানির এক পর্যায়ে সানাউল্লাহ মিয়া আদালতকে বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমি খালেদার জিয়ার সঙ্গে আদালতের ভেতরে মামলার বিষয়ে ৩০ মিনিট কথা বলতে চাই। বিচারক তখন বলেন, এটা আমার এখতিয়ারের ভেতরে নেই। আমি অনুমতি দিতে পারব না।

মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়া খালেদাকে হাজির করা হয়েছে : ফখরুল

নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা তাকে ছাড়পত্র দেননি। অন্য একজনের মাধ্যমে ছাড়পত্র লেখানো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য এ কাজগুলো করছে। মেডিকেল বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, খালেদা জিয়াকে এ মুহূর্তে ছাড়া ঠিক হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

মামলার সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি সাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা দায়ের করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকেই গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। টানা ১ মাস ২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বৃহস্পতিবার) আবারও তাকে কারাগারে নেয়া হলো।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *