কালের কাগজ ডেস্ক :০৮ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করাকে সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার দেশনেত্রীকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরণ করার যাবতীয় আয়োজন শুরু করেছে। তার চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মুহূর্তে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করার উদ্যোগ শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ংকর চক্রান্ত।

রিজভী আরো বলেন, খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন। ডাক্তার আতিক জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে। এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী খালেদা জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ দেশনেত্রীর জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার। বেগম জিয়া সুস্থ হোক, এটি বিদ্বেষপ্রবণ সরকার কখনো চায় না। তাকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তার জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিংস্র আচরণেরই চরম বহি:প্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচার বুদ্ধি হারিয়ে সরকার খালেদা জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ণ। সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রীকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তা

তিনি বলেন, তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউতে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যথায় জনগণ আর বসে থাকবে না। দেশনেত্রীকে বিপর্যস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেপ্তার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোন বিশ্বাস মেলেনি।

গতকালের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য। জেলা-মহানগরের সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক এমপি কেউই সরকারের গ্রেপ্তার অভিযান থেকে রেহাই পাননি। এমনকি সমাবেশে আসা ও যাওয়ার পথে হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করার পর প্রথমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এই কথা বলে দর কষাকষি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ছাড়া হয়নি। এমনকি ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বড় বড় গ্রুপ করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও পুলিশি হানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘরবাড়ী ও এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এইজন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ। তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তাণ্ডব, এতো পাইকারী গ্রেপ্তার! সরকার কি তাহলে প্রতারণা ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতিতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।

এ সময় তিনি সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হামলা মামলার তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সহ সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, দপ্তর সহ সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *