তামিম-সৌম্য’র সেঞ্চুরিতে ৩৩২-ও নস্যি!

editor ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক :০৬ ডিসেম্বর ,বৃহস্পতিবার ।

৫০ ওভারের ম্যাচে ৩৩২ রানের লক্ষ্যটা কঠিনই। কিন্তু তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের তাণ্ডবে ৩৩২ রানের পাহাড়ও হয়ে গেল নস্যি! দুজনের ব্যাটে চড়ে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটিতে বিসিবি একাদশ ডিএল পদ্ধতিতে জিতে গেছে ৫১ রানে। দলকে পাহাড় টপকানো জয় এনে দেওয়ার পথে সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ও সৌম্য দুজনেই। দীর্ঘ প্রায় পৌনে তিন মাস পর খেলতে নেমেই তামিম করেছেন ৭৩ বলে ১০৭ রান। তাণ্ডবে সৌম্যও কম যাননি। তিনি ৮৩ বলে করেছেন অপরাজিত ১০৩ রান।

তামিম সর্বশেষ ম্যাচটা খেলেছেন ১৫ সেপ্টেম্বর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে। ওই ম্যাচেই ব্যাটিং করার সময় হাতে চোট পান। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে। শেষ দিকে অবশ্য দলের প্রয়োজনে এক হাতেই ব্যাটিং করতে নেমে সবার মন জয় করে নেন। কিন্তু ওই ম্যাচের পর থেকেই তাকে যেতে হয়েছে পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে।

ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পুরো সিরিজই মিস করেছেন। খেলতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও। তবে শঙ্কা মুক্ত হওয়ায় তাকে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেএসপিতে করে ফেললেন রিহার্সেলও। তাতে শতভাগের চেয়েও বেশি সফল তামিম!

দীর্ঘ দিন পর মাঠে ফিরেই বিস্ফোরক এক ইনিংস। ক্যারিবীয় বোলারদের হাসপাস তুলে ৩৪ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন হাফসেঞ্চুরি। এরপর ৭০ বলে পা রাখেন সেঞ্চুরির দরজায়। শেষ পর্যন্ত রোস্টন চেসের শিকার হয়েছেন ৭৩ বলে ১০৭ রান করে। ঝড়ো ইনিংসটিতে ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন তিনি।

তামিম ফিরে যাওয়ার পর দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন সৌম্য সরকার। অনেক দিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সৌম্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেই ফিরে পান ছন্দ। দলকে জয় এনে দেওয়ার পথে সেদিন খেলেন ১১৭ রানের ইনিংস। আজ প্রস্তুতি ম্যাচেও যেন সেখান থেকেই শুরু করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। তামিমের মতোই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ৮৩ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংসে ৬টি ছক্কা ও ৭টি চার মারেন তিনি।

তামিম-সৌম্য তাণ্ডবে বিসিবি একাদশ ৪১ ওভারেই ৬ ‍উইকেট হারিয়ে করে ফেলে ৩১৪ রান। মানে বাকি ৯ ওভারে দরকার ছিল ১৮ রান। হাতে ৪ উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা, উইকেটে তখনো উইকেটে ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান সৌম্য ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। আলোকস্বল্পতার কারণে আর খেলা হতে পারেনি। তা খেলা না হলেও তা বিসিবি একাদশের জয় আটকে যায়নি। কার্টেল ওভার নীতিতে ৪১ ওভারে যত রান করা দরকার ছিল, ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তার চেয়েও ৫১ রান বেশি করে ফেলে বিসিবি একাদশ। ফলে ডি/এল পদ্ধতি জয়টাও ওই ৫১ রানেই।

এর আগে সকালেই এক চমক মেলে বিক্রেএসপিতে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা দলে থাকতেও টস করেন রুবেল হোসেন। তবে রুবেলের টস ভাগ্যটা ভালো হয়নি। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রভমান পাওয়েল।

বিক্রেএসপির রান-প্রসবা উইকেটে ক্যারিবীয়রাও রান উৎসব করেছে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তাই ৮ উইকেট হারিয়ে তারা গড়ে ৩৩১ রানের বিশাল পুঁজি। কাইরান পাওয়েল ৪৩, শাই হোপ ৮১, রোস্টন চেস ৬৫, ফাবিয়ান অ্যালেন ৪৪, হেটওমেয়ার ৩৩ রান করেন। বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে রুবেল, মেহেদী হাসান রানা ও নাজমুল ইসলাম ২টি করে এবং মাশরাফি ও শামীম পাটওয়ারি একটি করে উইকেট নেন।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ