জাহিদুর রহমান রোম ছিলেন একজন মুক্ত মনের ও স্বাধীন চিন্তার মানুষ

editor ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:১২ জানুয়ারী,শনিবার ।

ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জের পারিবেশবাদী সংগঠন -পাখী লালন করি (পালক) এর আহবায়ক প্রয়াত জাহিদুর রহমান রোমের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট সেন্টার (স্যাক) মিলনায়তনে এই স্মরণসভার আয়োজন করে পাখী লালন করি (পালক), চকি সংসদ ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল।

চকি সংসদের স্পীকার ও স্যাকের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল হুদা সেলিম, মানিকগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাদরুল ইসলাম খান বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক তায়েবুর রহমান টিপু, দপ্তর সম্পাদক এহতেশাম হোসেন খান ভুনু, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ইজাজুল হোসেন খান বরশাদ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা বিকাশ মন্ডল বাবুল, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, খাজা রহমত আলী কলেজের প্রভাষক বাসুদেব সাহা, পালকের সদস্য-সচিব বিমল রায় মানিকগঞ্জ প্রেসকাবের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, প্রয়াত জাহিদুর রহমান রোমের জৈষ্ঠ পুত্র সনেট।

বক্তারা বলেন, জাহিদুর রহমান রোম একজন মুক্ত মনের ও স্বাধীন চিন্তার মানুষ ছিলেন। তিনি সারাজীবন সততার সাথে জীবন যাপন করেছেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। তিনি কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখনও গ্যাজেটে অন্তর্ভূক্ত হয়নি। তবে যাচাই-বাছাই হয়ে তার নামসহ আরো কয়েকজনের নাম গেজেটে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে সুপারিশ করেছে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি। সরকারী সিদ্ধান্তে আপাতত ওই কার্যক্রম স্থগিত আছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেয় তাহলে তাদের নাম গেজেটে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হবে। বক্তারা জাহিদুর রহমান রোমকে মরণোত্তরসহ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

তিনি গত ৯ জানুয়ারী মানিকগঞ্জ শহরের দাশড়াস্থ নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুলটিয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে নানাধরণের সামাজিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি পাখী লালন করি (পালক) এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল-এই দুটি সংগঠনের প্রধান ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন ।
কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ