টগবগে ঢাকাকে ১৭৩ রানে বাঁধলেন তাসকিন

editor ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ খেলাধুলা

কালের কাগজ ডেস্ক:১২ জানুয়ারী,শনিবার ।

প্রথমে ব্যাট করে সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৭৩ রান। মিরপুরের স্লো উইকেট বিবেচনায় পুঁজিটা আশা জাগানিয়াই। তারপরও ইনিংস শেষে স্কোরকার্ডের দিকে তাকিয়ে হয়তো আফসোসের আগুণেই পুড়ছে ঢাকা ডায়নামাইটস। মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১১.৪ ওভারেই ১০৬ রান। ঢাকার স্কোর ২০০ ছুঁবে বলেই মনে হচ্ছিল তখন। কারণ তখনো ব্যাট করার বাকি কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেলের মতো দানবেরা। কিন্তু দুইশ’র সম্ভাবনা জাগিয়েও ঢাকাকে ১৭৩ রানে থামতে হলো তাসকিন জাদুতে।

এক ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই টেনে ধরেন টগবগিয়ে ছুটে চলা ঢাকার লাগাম।েএক ওভারেই ফিরিয়ে দেন দুই ক্যারিবীয় দানব আন্দ্রে রাসেল, পোলার্ড ও শুভাগত হোমকে। ওই এক ওভারেই তিনি পাল্টে দিয়েছেন ম্যাচের চেহারা। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দেন তাসকিন। আজ অবশ্য শুরুটা ভালেঅ হয়নি তার। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে দিয়েছেন ১৮ রান।

দ্বিতীয় স্পেলে ইনিংসের ১৫তম এবং নিজের তৃতীয় ওভারটি করতেই এসেই নিজের জাদু দেখালেন তাসকিন। ওভারের দ্বিতীয় বলে ফেরালেন আন্দ্রে রাসেলকে। পরের বলে ১ রান। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পোলার্ড ও শুভাগত হোমকে ফিরিয়ে দিয়ে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাও। শেষ পর্ন্ত হ্যাটট্রিক না হলেও চাপে ফেলে দেন ঢাকাকে। টেনে ধরেন রানের চাকা। রাসেল ৫, পোলার্ড ৩ ও শুভাগত হোম মেরেছেন ডাক!

ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য এদিন ম্যাচের আগেই একটা চমক দেখান। টুর্নামেন্টের রীতি ভেঙে টস জিতেও তিনি ব্যাটিং নেন প্রথমে। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত ধাক্কা খায় শুরুতেই। প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভীরের শিকার হয়ে ফিরে যান হযরতউল্লাহ জাজাই। আফগান ব্যাটসম্যান আউট হন মাত্র ৪ রান করে। শুরুর এই ধাক্কা সামলে সুনিল নারাইন ও রনি তালুকদার মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। নারাইনকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন অলক কাপালি। এরপর রনি তালুকদার ও সাকিব মিলে দলকে নিয়ে যান ১০৬ রানে।

বিশেষ করে রনি তালুকদারের ব্যাট ঝলসে উঠেছিল। মাত্র ৩১ বলেই তিনি পূর্ণ করেন এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। তিনি ফিফটিতে পা রাখেন চার মেরে। ফিফটির পরও পরপর দুই বলে বাউন্ডারি মারেন তিনি। একটি ছক্কা ও ৩টি চারসহ আফিফ হোসেনর প্রথম ৫ বলেই তিনি তুলে নেন ২০ রান।

ষষ্ঠ বলটিতেও তিনি ছক্কা মারতে যান আফিফকে। কিন্তু লংঅফে নিকোলাস পুরানের অসাধারণ এক ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরতে হয় তাকে। বাউন্ডারি সীমারা ঠিক উপরে দাঁড়িয়ে লাফিয়ে উঠে ক্যাচটা লুফে নেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটার।

৩ ছক্কা ও ৫ চারে রনির ৩৪ বলে ৫৮ রান করে ফেরার পরই আসলে মোড়ক লাগে ঢাকার ইনিংসে। রনির একটু পরই আল-আমিনের বলে আউট হন সাকিব আল হাসান। ১৭ বলে ২৩ রান করেছেন তিনি। এরপর তাসকিন জাদু।

তারপরও ঢাকা শেষ পর্ন্ত নুরুল হাসান ও মোহাম্মদ নাইমের কারণে। অষ্ঠম উইকেটে দুজনে গড়েছেন ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। নুরুল ১০ বলে অপরাজিত ১৮ ও নাইম ২৩ বলে করেছেন অপরাজিত ২৫ রান।

৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া তাসকিনই সিলেট সিক্সার্সের সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন সোহেল তানভীর, আল-আমিন, অলক কাপালি ও আফিফ

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ