চারে চার ঢাকার

editor ১১ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ খেলাধুলা

কালের কাগজ ডেস্ক:১২ জানুয়ারী,শনিবার ।

তাসকিন আহমেদের এক ওভারে ৩ উইকেট জাদু কোনো কাজেই আসল না। সেই দায় তারই সিলেট সিক্সার্সের ব্যাটসম্যানদের। তাসকিন ওই এক ওভার জাদু ২০০-এর সম্ভাবনা জাগানো ঢাকা ডাঢনামাইটসকে ১৭৩ রানে বেঁধে রাখে ঠিক। কিন্তু ঢাকার বোলাররা প্রমাণ করেছেন ওই ১৭৩ রানই বড় জয়ের জন্য যথেষ্ট! ঢাকা ম্যাচটা জিতে নিয়েছে ৩২ রানে। ১৭৪ রানে লক্ষ্য তাড়ায় সিলেট ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করতে পেরেছে ১৪১ রান।

এ নিয়ে টুর্নামেন্টে টানা ৪ ম্যাচেই জিতল সাকিব আল হাসানের ঢাকা। সত্যিই অবিশ্বাস্য সাফল্য যাত্রা। ১৭৩ রানের পুঁজিকে যথেষ্ট প্রমাণে ঢাকার বোলিং শুরু করেন অধিনায়ক সাকিব। প্রথম ওভারেই তিনি ফিরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে।

ওপ্রান্ত দিয়ে পরের ওভারে আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে দেন শুভাগত হোম। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আবার লিটন দাসকে বিদায় করেন সুনিল নারাইন। ২১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে সিলেট জয়ের পথ হারিয়ে ফেলে শুরুতেই।

 

এরপরও বড় জুটি গড়তে পারলে হয়তো একটা সুযোগ তৈরি হতে পারত। কিন্তু ঢাকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সিলেটের ব্যাটসম্যানরা বড় জুটিও গড়তে পারেননি। শেষ দিকে নিকোলাস পুরান ও তাসকিন ৫০ রানের জুটি গড়লেও তাতে কাজ হয়নি।

আগের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন আলিস আল ইসলাম। স্বাভাবিকভাবেই আজ তাকে নিয়ে বিশেষ কৌতুহল ছিল সবার। কিন্তু ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আলিসকে বলই দিলেন ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর!

ফলে তার পক্ষে জাদুকরি কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে একেবারে হতাশ করেননি। বল হাতে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই পেয়ে যান উইকেটের দেখা। ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানি সোহেল তানভীরকে।

ঢাকার বোলারদের সামনে সিলেটের ব্যাটসম্যানরা কতটা অসহায় ছিলেন, সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট। সিলেটের ১১ ব্যাটসম্যানের ৮ জনই করেছেন সিঙ্গেল ডিজিট রান। দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র তিনজন। সেই তিনজনের মধ্যে সাব্বির রহমান করেছেন ১২ ও তাসকিন অপরাজিত ১৮ রান করেছেন! ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত ছিলেন কেবল নিকোলাস পুরান।

ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান ৪৭ বলে খেলেছেন ৭২ রানের ইনিংস। ৯ ছক্কা ও ১ চারে সাজানো তার ইনিংসটির সুবাদেই ১৪১ পর্যন্ত যেতে পেরেছে সিলেট। ৭৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর তাসকিনকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। যে জুটিতে তাসকিনের অবদান মাত্র ৫ রান! শেষ পর্যন্ত তাসকিন করেছেন ১৮ রান। পুরানের দারুণ ইনিংসটি দর্শকদের বিনোদনই দিতে পেরেছে শুধু। সিলেটের জয়ের সম্ভাবনাও জাগাতে পারেনি!

ঢাকার বোলারদের সবচেয়ে সফল রুবেল হোসেন। তিনি নিয়েছেন ৩ উকেট। এছাড়া সাকিব ও শুভাগত হোম ২টি করে এবং নারাইন ও আলিস ইসলাম নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা ১১.৪ ওভারেই করে ফেলেছিল ১০৬ রান। সেটিও মাত্র ২ উইকেটে। ঢাকার সংগ্রহ ২০০ পেরোবে বলেই মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু তাসকিন এক ওভারেই ফিরিয়ে দেন দুই ক্যারিবীয় দানব আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড ও শুভাগত হোমকে। তাসকিনের এই ধাক্কায় দুইশ’র সম্ভাবনা জানানো ঢাকা আটকে যায় ১৭০-এর ঘরে। ৭ উইকেটে করে ১৭৩।

ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন রনি তালুকদার। মাত্র ৩৪ বলে ৩ ছক্কা ও ৫ চারে এই ইনিংসটি খেলেন তিনি। এছাড়া নারাইন ২১ বলে ২৫, মোহাম্মদ নাইম ২৩ বলে অপরাজিত ২৫, সাকিব ১৭ বলে ২৩, নুরুল হাসান ১০ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলেন।

উল্লেখ্য, তিন ম্যাচে সিলেটের এটা দ্বিতীয় হার।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ