ব্রেকিং নিউজ

প্রশ্নফাঁসের মূলোৎপাটন, শিক্ষায় স্বস্তি ফিরেছে

editor ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক: ১০ মার্চ ২০১৯ ,রবিবার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম দুশ্চিন্তা এবং হুমকির নাম ছিল প্রশ্নফাঁস। যেকোনো পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা ভর করতো শিক্ষার্থীদের মাথায়। তবে সুখবর হচ্ছে এই আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেয়েছে দেশের শিক্ষার্থীরা। এখন প্রশ্নফাঁস নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এখন আর শিক্ষার্থীদের প্রশ্নফাঁসের দুশ্চিন্তা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়না।

প্রশ্নফাঁসের কোনো অভিযোগ ছাড়াই সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী দেশের দশটি শিক্ষা বোর্ডে অধীনে অংশগ্রহণ করেছে। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস মহামারি আকারে দেখা দেওয়ার পর গত এইচএসসি পরীক্ষায় এ বিষয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছিল। নতুন শিক্ষামন্ত্রী আসার পর প্রশ্নফাঁস বন্ধের সেই ধারাবাহিকতার ফলাফল স্বরূপ প্রশ্নফাঁস নামক ব্যাধি থেকে মুক্তি মিলেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে। প্রশ্নফাঁসের মতো ভয়াবহ সামাজিক অভিশাপের তৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিষয়ে নিজের এবং সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলে আসছিলেন ডা. দীপু মনি। তিনি শুধু কথাতেই থেমে থাকেননি, কাজেও পরিণত করেছেন। কারণ, প্রশ্নফাঁস বন্ধে এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের প্রায় দেড় শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে ৩০টিরও বেশি কোচিং সেন্টারকে।

প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় না দেওয়ার মন মানসিকতা নিয়ে আইনি অভিযান চালানোর ফলে দেশের শিক্ষাখাত থেকে বিতাড়িত হয়েছে প্রশ্নফাঁস। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকার, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। উল্লেখ্য এই নির্দেশনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হস্তে বাস্তবায়ন করেছে। আইন অমান্য করে যারা কোচিং সেন্টার খোলা রেখেছিলো তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রশ্ন ফাঁস নামক ব্যাধি থেকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুক্ত করার ফলে আগামীতে মেধাবী মানবসম্পদ তৈরির পথ সুগম হবে, যারা নিজের ও দেশের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে।

সম্প্রতি সংবাদ