এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৫ জনের নাম-পরিচয়

editor ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৯ মার্চ-২০১৯,শুক্রবার।

রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৭৩ জন।

নিহত ২৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ আজ সকালে এফআর টাওয়ারের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সবার লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি একজনের লাশ ঢাকা মেডিকেলে আছে। তাঁকেও শনাক্ত করা হয়েছে। সেটিও হস্তান্তর করা হবে।’

নিহতদের নাম ও ঠিকানা

১. ইফতিয়ার হোসেন মিঠু (৩৭), পিতা-মো. ইছহাক, ঠিকানা-বানিয়াপাড়া, কুমারখালী, কুষ্টিয়া; ২. শেখ জারিন তাসনিম বৃষ্টি (২৫), পিতা-শেখ মোজাহিদুল ইসলাম, ঠিকানা-বেস্টপাড়া, মেইন রোড, থানা-যশোর বর্তমানে-৮৪/১ খিলক্ষেত বটতলা, খিলক্ষেত, ঢাকা; ৩. মো. ফজলে রাব্বী (৩০), পিতা-মো. জহিরুল হক, উত্তর ভূঁইঘর, থানা-ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ; ৪. আতিকুর রহমান (৪২), পিতা-মৃত. আবদুল কাদির মির্জা, সাং-পূর্ব সারেনগা শৈলাপাড়া, থানা-পালং, জেলা-শরীয়তপুর, (বর্তমানে থাকতেন আমতলা, মানিকদী, ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা); ৫. আনজিব সিদ্দীকি আবির (২৭), পিতা-আবু বক্কর সিদ্দিকী, সাং-কলেজ রোড, পাটগ্রাম, জেলা-লালমনিরহাট, (বর্তমানে থাকতেন ৮৫ মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা; ৬. আবদুল্লাহ আল ফারুক (৬২), পিতা-মৃত মকবুল আহম্মেদ, সাং-পূর্ববগাইর, থানা-ডেমরা, জেলা- ঢাকা; ৭. রুমকি আক্তার, স্বামী-মাকসুদুর রহমান, সাং-জলঢাকা, নীলফামারী; ৮. মো. মঞ্জুর হাসান (৪৯), পিতা-মৃত মনসুর রহমান, সাং-বোয়ালিয়া, থানা-নওগাঁ, জেলা-নওগাঁ (বর্তমানে থাকতেন ছাপড়া মসজিদ, ইব্রাহিমপুর, থানা-কাফরুল, ঢাকা); ৯. মো. আমির হোসেন রাব্বী (২৯), পিতা-মো. আইয়ুব আলী, সাং-গাঙ্গহাটি (চরপাড়া), থানা- আতাইকুলা, জেলা-পাবনা, (বর্তমানে বাসা-২৩, রোড-৯, ব্লক-এ, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা); ১০. সৈয়দা আমিনা ইয়াসমিন, পিতা সৈয়দ মহিউদ্দিন আহম্মেদ, গ্রাম-রামপাশা, কেরামতনগর, থানা-কমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভীবাজার, (বর্তামানে থাকতেন এ/পি-২০৬ কাফরুল, ঢাকা; ১১. মো. মনির হোসেন সর্দার (৫২), পিতা-মৃত মোতাহার হোসেন সর্দার, সাং-উত্তর কড়াপুর (সর্দারবাড়ী, থানা- বিমানবন্দর, জেলা বরিশাল, (বর্তমানে থাকতেন ৬৮৫/২, মোল্লার রোড, পূর্ব মনিপুর, ঢাকা); ১২. মো. মাকসুদুর রহমান (৩২), পিতা-মৃত মিজানুর রহমান, সাং-১১ নম্বর আলমগঞ্জ, থানা- গেণ্ডারিয়া, জেলা-ঢাকা; ১৩. আবদুল্লাহ আল মামুন (৪০), পিতা-মৃত আলহাজ আবুল কাশেম, সাং- বাসা-১৫/৬/২, রোড-১, কল্যাণপুর, থানা-মিরপুর, ঢাকা-১২১৬; ১৪. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬), পিতা-মৃত আবদুর রশিদ মুন্সি, সাং-চতরা, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর, (বর্তমানে থাকতেন বাসা নম্বর-২/এ/২/১৬/, মিরপুর-২, ঢাকা); ১৫. মো. মিজানুর রহমান, সাং-কোদলা, থানা-তেরখাদা, জেলা-খুলনা (বর্তমান ঠিকানা হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, এফআর টাওয়ার ১০ তলা, রোড নং-১৭, বনানী ঢাকা); ১৬. ফ্লোরিডা খানম পলি (৪৫), স্বামী-ইউসুফ ওসমান, বাসা-২, রোড-৪, রূপনগর হাউজিং, থানা-রূপনগর, ঢাকা; ১৭. আতাউর রহমান (৬২), পিতা-মৃত হাবিবুর রহমান, বাসা-১৭/২, তাজমহল রোড, ব্লক-সি, থানা-মোহাম্মদপুর, ঢাকা; ১৮. মো. রেজাউল করিম রাজু (৪০), পিতা-নাজমুল হাসান, সাং-দক্ষিণ নাগদা, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা-চাঁদপুর (বর্তমানে থাকতেন বাড়ি নম্বর-১৬, রোড-২৩, ফ্ল্যাট বি/২, বনানী, ঢাকা); ১৯. আহম্মদ জাফর (৫৯), পিতা- মৃত হাজি হেলাল উদ্দিন, সাং-নবীনগর, থানা-সোনারগাঁও, জেলা-নারায়ণগঞ্জ; ২০. জেবুন্নেছা (৩০), পিতা-আবদুল ওয়াহাব, সাং-লক্ষ্মীনারায়ণপুর, থানা-বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী (বর্তমানে থাকতেন ৬৬/৩, পশ্চিম রাজাবাজার, থানা-শেরেবাংলা, ঢাকা); ২১. মো. সালাউদ্দিন মিঠু (২৫), পিতা-সামসুউদ্দিন, বাসা-৩৪৯, মধুবাগ মগবাজার, রমনা, ঢাকা; ২২. নাহিদুল ইসলাম তুষার (৩৫), পিতা-মো. ইছাহাক আলী, সাং-ভানুয়ানগর, থানা-মির্জাপুর, টাঙ্গাইল; ২৩. তানজিলা মৌলি (২৫), স্বামী-রায়হানুল ইসলাম, সাং-সান্তাহার বলিপুর, থানা-আদমদীঘি, জেলা-বগুড়া (বর্তমানে থাকতেন মিতালী হাউজিং দক্ষিণ কাফরুল, বাড়ি ই/৩, কাফরুল, ঢাকা); ২৪. মো. পারভেজ সাজ্জাদ (৪৬), পিতা-মৃত নজরুল ইসলাম মৃধা, সাং-বালুগ্রাম, কাশিয়ানী, জেলা-গোপালগঞ্জ; ২৫. নিরস চন্দ্র (৩৫), পিতা-বিগনা রাজা, সাং-শ্রীলংকা (বর্তমানে থাকতেন বাসা- ৭৬, রোড-১৮, ব্লক-এ, বনানী, ঢাকা)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীর ১৭ নম্বর রোডে ২২ তলা এফআর টাওয়ারের নবম তলায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। এদের সঙ্গে যোগ দেন সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এলাকার সাধারণ মানুষও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেয় ৫টি হেলিকপ্টার। বালি-পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়। হেলিকপ্টারগুলো বাতাস দিয়ে ধোঁয়া সরানোর চেষ্টা করে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৬ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সন্ধ্যায় একাংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে প্রবেশ করেন। সেখানে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন।

এদের অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন। ধোঁয়ার কারণে অজ্ঞান হয়েও মারা গেছেন কেউ কেউ। আবার জীবিতও অনেককে উদ্ধার করা হয়।

এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭ এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজনের মৃতদেহ রয়েছে। তবে রাত ১১টার পর ফায়ার সার্ভিসের ঘোষণার পর মৃতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের ৩৬ দিনের মাথায় বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। চুড়িহাট্টায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৭১।

এর আগে পুরান ঢাকার নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ১১৯ জনের মৃত্যু হয়। এবার বনানীর এফআর টাওয়ারে মৃত ১৯। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ