সিন্ডিকেটের হাতে আটক যুবদল কমিটি, হতাশ নেতাকর্মীরা

editor ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজডেস্খ;০২ এপ্রিল-২০১৯,মঙ্গলবার।

কোনভাবে বিশৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে পারছে না বিএনপি। সেই বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীনতা পিছু ছাড়েনি যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও।

জানা গেছে, রাজপথে সরব থাকা তো দূরের কথা, গত দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাবে নেতাদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। অচিরেই কমিটির অনুমোদন না দিলে যুবদল নেতাকর্মী সংকটে পড়বে বলে মনে করছে দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একান্ত আলাপে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুবছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। যার করণে যুবদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের বিগত কমিটির এক নেতা বলেন, অর্থের কাছে যুবদলের কমিটি আটকে গেছে। সিন্ডিকেট করে যুবদলের রাজনীতিতে কৃত্রিম স্থবিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যোগ্যতা নয়; পারিবারিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন মামুনের খালাতো ভাই নীরব ও আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই হিসেবে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এগুলো তো রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

তিনি আরো বলেন, কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নীরবকে সভাপতি করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ম্যাডামকেও বিষয়টি নিয়ে তার মতামত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের কাছে গয়েশ্বর রায়কে হার মানতে হয়েছে। যুবদলের বিষয়ে কথা বলার জন্য কেন্দ্রের চাপে পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সত্য শোনার ও সহ্য করার ক্ষমতা সবার থাকে না।

যুবদলের কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সহজেই পদ পাওয়ায় নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেছে নীরব। নীরবকে যুবদলের সভাপতি বানানোতে চরম ক্ষতি হয়েছে। নীরবকে কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না।

তিনি আরো বলেন, সাইফুল আলম নীরব জাতীয় নির্বাচনে মনোনীত হলেও তাকে মাঠে দেখা যায়নি। গুঞ্জন শুনেছি যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর একাংশের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করে নীরব। এগুলো তো বিএনপির সঙ্গে সরাসরি বেইমানি করার সামিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হবে। কবে নাগাদ হবে, কোনো টাইম ফ্রেম আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাইম ফ্রেম দিয়ে রাজনীতি হয় না। শিগগিরই গঠন করা হবে।

সম্প্রতি সংবাদ