ঘূর্ণিঝড় ফণী ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি

editor ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:: ৩ মে ২০১৯ ,শুক্রবার।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড় “ফণী”। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট উক্ত ঘূর্ণিঝড় সময়ের সাথে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ভয়ঙ্কর রূপে এই শক্তির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাণ্ডব লীলা দেখাতে পারে এই ঘূর্ণিঝড় ফণী। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় আগামীকাল শুক্রবার বিকালে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশে আঘাত হানলে দেশের বিভিন্ন এলাকার দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৯০-১১০ কি. মি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশ উপকূলের ৯১৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ার পর সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর সহ সংশ্লিষ্ট চর ও উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এবং এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। বুধবার বিকালে সচিবালয়ে ফণী মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উপকূলীয় সেনা ক্যাম্পগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাইকিং করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ওই ১৯ জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসকদের দুইশ মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোতে পাঁচ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়েছে জরুরি সহায়তার জন্য।

ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্যান্য ছুটি বাতিল করে তাদেরকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সব শাখা বুধবার থেকে অব্যাহতভাবে খোলা রাখা হয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য। সেই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ