আসন্ন রমজানে ভেজাল ও পঁচা খাবার রোধে তৎপর সরকার

editor ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৪ মে ২০১৯,শনিবার।

রমজান মাস আসলেই অনৈতিকভাবে ভাবে অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভেজাল ও পঁচা খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করণ শুরু করে। নানা রকম খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্তিম সঙ্কট তৈরী করে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয় মুনাফালোভী কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে এবং পচা ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য রোধ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
খাদ্যে ভেজাল ও পণ্য বিক্রিতে প্রতারণা রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে ফলমূল, সেহরি-ইফতারের খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার প্রতিরোধ এবং মাছ-মাংস ইত্যাদি নিত্যপণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পুরো রমজান মাসে মাঠে থাকবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
আসন্ন রমজানে ভেজাল খাদ্য ও পচা-বাসি খাবার রোধে খাদ্য মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। রমজানে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে, এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রমজানে পঁচা, বাসি ও ভেজাল খাবার রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।”
খাদ্যশস্যের সন্তোষজনক মজুদ রয়েছে জানিয়ে সাধন চন্দ্র বলেন, “মাসিক চাহিদা ও বিতরণ পরিকল্পনার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে, কোনো ঘাটতি নেই।” বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চাল ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন এবং এক লাখ ৭৩ লাখ মেট্রিক টন গম।
খাদ্যশস্যের বাজারমুল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে রমজানে ১৮ টাকা কেজি দরে আটা এবং ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য ও ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকার পাশাপাশি খাদ্য স্থাপনাগুলোতে মনিটরিং জোরদারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শককে আসন্ন রমজান উপলক্ষে খাদ্য স্থাপনা ও বাজার পরিদর্শন জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরন, সরবরাহ ও বিপণন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয কমিটির সাধ্যমে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া কাঁচা বাজার, ইফতার বাজার, খাদ্য স্থাপনা, হোটেল ও রেঁস্তোরায পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় পরিদর্শন দল গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য মন্ত্রণালয়সহ সহযোগী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় খাদ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সম্প্রতি সংবাদ