ব্রেকিং নিউজ

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জোট গড়ছেন গয়েশ্বর-মির্জা আব্বাস!

editor ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:০৯ মে -২০১৯,বৃহস্পতিবার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদে যাওয়া নিয়ে বিএনপিতে চলছে নানা বিতর্ক। গুঞ্জন চলছে যে, ৫ জনকে সংসদে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংসদে যোগদান না করতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তারেক।

হাইকমান্ড কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ৪ জন যে শপথ নিয়েছেন, সেটা ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু দলের মধ্যে এই নির্দেশনা নিয়ে মতভেদ চরম রূপ ধারণ করেছে। অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, এই সিদ্ধান্তটা হয়েছে আত্মঘাতী, অসম্মানজনক এবং হাস্যকর। তারেক রহমানের এমন সিদ্ধান্তের সব চেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শোনা যাচ্ছে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে একজোট হয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মির্জা আব্বাস।

গুঞ্জনের বিষয়টি আঁচ পেয়ে ৭ মে তারেক রহমান ফোন করেছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। তারেক রহমান তাকে ধমকের সুরেই প্রকাশ্যে দলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা না করার নির্দেশ দেন। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা না করে কিভাবে ৫ জন এমপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো? তারা যদি সংসদে যাবেই তাহলে কেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে গেলেন না?’ এসময় তারেক রহমান এসব কথার জবাব দিতে পারেননি। তিনি বলেন যে, এগুলো দলীয় ফোরামে আলোচনা করা উচিৎ। গয়েশ্বর বলেন যে, কোন দলীয় ফোরাম? দলীয় কোনো ফোরাম নেই তো। আপনার যেটা মনে হচ্ছে সেটাই আপনি চাপিয়ে দিচ্ছেন দলের উপর। এভাবে দল চলতে পারে না। তারেক রহমান আর কথা বাড়াননি। তিনি ফোন লাইন কেটে দেন।

এমন প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, তারেক রহমানকে দলে অজনপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরতে একটি মহলের হয়ে কাজ করছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং তাকে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দিচ্ছেন মির্জা আব্বাস।

দলের একটি সূত্র বলছে, গয়েশ্বরকে থামাতে মির্জা আব্বাসের সঙ্গেও তারেক রহমানের টেলিফোনে আলাপ হয়। সেই আলাপও সুখকর ছিল না। এরপর তারেক রহমান বিএনপির আরেকজন সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন। তারেক রহমান অ্যাডভোকেট মাহাবুব হোসেনকেও প্রকাশ্যে বিএনপির সমালোচনা না করার জন্য অনুরোধ জানান। জবাবে মাহাবুব হোসেন বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে। বিএনপির ভেতরেই তো গণতন্ত্র নেই। কি হচ্ছে বিএনপিতে তা তো বিএনপি নেতারাই জানেন না। অন্যরা কি জানবে?

জানা গেছে, মির্জা আব্বাস তারেক রহমানকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যেন আপাতত রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। তিনি যদি যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দেন তাহলে দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আর যদি রাজনীতি করতেই চান, তাহলে দেশে এসে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করুন। বাইরে থেকে হঠাৎ হঠাৎ নির্দেশনা দিলে দলে বিভ্রান্তি বাড়বে।

স্পষ্টতই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দলের নেতৃবৃন্দর এই অবস্থান বিএনপির নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করছে। শোনা যাচ্ছে প্রকাশ্যে দলে বিভেদ ও মতবিরোধ সৃষ্টি করার পাঁয়তারায় আগামী জাতীয় কাউন্সিলে অপাংক্তেয় হতে পারেন গয়েশ্বর-আব্বাস জুটি। কার ইশারায় এ-দুজন এমন করছেন সেটি নিয়েও দলের অভ্যন্তরে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সম্প্রতি সংবাদ