বরংগাইল উচ্চ বিদ্যালয়েরপাশের হার হতাশাজনক

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

সুরেশ চন্দ্র রায়(শিবালয়)মানিকগঞ্জ:১১ মে-২০১৯,শনিবার।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় তার অর্জিত ফলাফল ও সুনাম ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এক সময় শিবালয়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মেধা তালিকার কথা চিন্তা করলেই আনমনে স্মৃতিপটে ভেসে উঠতো বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম। কিন্তু এখন এটি যেন কেবলই স্মৃতি। ২০১৯ সালের এস এস সির ঘোষিত ফলাফল যেন তার জলন্ত প্রমান। ১৯২৪ সালে টিনসেড ঘরে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। মানুষ গড়ার এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহন করে অনেকে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, সচিব, আইনজীবি, প্রফেসর, লেকচারারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন ছিলেন এরং আছেন। শিক্ষকমন্ডলী তাদের অর্জিত জ্ঞান নিঃস্বার্থভাবে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে লাভ করতেন পরম আনন্দ। বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে উজ্জ্বল করেছেন পিতামাতা, শিক্ষকমন্ডলীর মুখ আর বিদ্যালয়ের সুনাম। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের আচরন দেখে মনে হতো এরা যেন পিতা পুত্র অথবা কন্যার বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না আছে সেই সম্পর্কের ছোয়া, না আছে চমক দেয়ার মতো আকাশচুম্বি কোন ফলাফল।
কালের বিবর্তনে সেই টিনসেড স্কুল আজ বিল্ডিং এ রুপান্তরিত হয়েছে। কক্ষে কক্ষে রয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি. পাখা, সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, এক কথায় শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ। সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকার পরও ঘটছে পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়। তাহলে ঘাটতি কোথায়?
স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি বলেন, বরংগাইল স্কুলের অবকাঠামো দিক আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। স্কুলের পরিবেশও সুন্দর হয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়নি বিন্দুমাত্রও। বরং পূর্বের চেয়ে শিক্ষার মান কমেছে অনেকখানি।
শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় শিবালয় উপজেলার ২১টি বিদ্যালয়ে মধ্যে বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের স্থান ১৬ তম। ২৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৫৯ জন। এ বিদ্যালয়ে পাশের হার ৫৪.৬৪। অথচ পাশ্ববর্তী যমুনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ১০০ ভাগ।
বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য ফজলুল হক (ফজলা) দৈনিক কালের কাগজ বলেন, এ বছর এসএসসি পরিক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা দেয়ার কারনে এমন ফল বিপর্যয় হয়েছে। পরীক্ষা কার্যে নিয়োজিত উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ কতিপয় শিক্ষকের ভুলের কারনে ছাত্রছাত্রীরা এসএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এমন ভুল কাজের শাস্তিস্বরুপ লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক সাসপেন্ড হয়েছিলেন। বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে কিনা আমার সঠিক জানা নাই।শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এ আর মাসুদ উদ্দিন পিন্টু বলেন, টেষ্টে যে সকল ছাত্রছাত্রী পাশ করেনি তাদেরও চুড়ান্ত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল। তাহলে এর চেয়ে ভাল ফলাফল আর কি আশা করা যায় !
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, এবারের এসএসসির ফল বিপর্যয়ে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এবং লজ্জিত। এ বিষয়ে আমার স্কুলের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার অভাব থাকতে পারে, আমার ব্যক্তিগত ত্রুটি থাকতে পারে। তাছাড়া মেধাবি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা আমার বিদ্যালয়ে খুব কম। মেধাবিরা আমার বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় না। ভুল প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছিল। কোন বিষয়ে ছেলে মেয়ে বেশি ফেল করেছে মার্কসীট আসলে জানা যাবে। প্রয়োজনে আগামীতে শ্রেণি শিক্ষক পরিবর্তন করা হবে। আর সাসপেন্ডের বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহিম খান দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ