ব্রেকিং নিউজ

একমঞ্চে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতারা

editor ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ breaking midslider জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক ১২ মে ২০১৯,রবিবার।

বর্তমান সময়ে সৌহার্দপূর্ণ রাজনীতি চর্চার দেখা মেলে অনেক কম। সেখানে একমঞ্চে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বসার ঘটনা খুবই বিরল।

তবে শনিবার এমন ঘটনাই দেখা গেলো রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে।

পঞ্চগড় জেলা সমিতির আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে একমঞ্চে দেখা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন (এমপি), বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানকে।

এছাড়াও ইফতারে পঞ্চগড় দুই আসনে নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জেলার আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পঞ্চগড় জেলা সমিতির সদস্য সচিব কৃষিবিদ আব্দুর রহমান।

বক্তব্যে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, রাজনীতির মাঠে আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ হতে পারি কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা সকলেই পঞ্চগড়ের সন্তান।

পঞ্চগড়ের উন্নয়নের জন্যই আমাদের রাজনীতি। পঞ্চগড়ের উন্নয়নের স্বার্থেই আমরা দলমত নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। এ সময় তিনি রেলমন্ত্রী হওয়ায় পঞ্চগড়-২ এর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজনকে অভিনন্দন জানান।

এছাড়াও সাবেক এ স্পিকার পঞ্চগড়ের অসমাপ্ত সকল কাজ এবং রেলপথকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন তার বক্তব্যে রেলপথকে ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধা হয়ে ভারত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান। তিনি বলেন, এবার উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন রেলসেবা চালু হয়েছে। এরপর ২০ তারিখের আগেই ঢাকা-পঞ্চগড় বিরতিহীন ট্রেন উদ্বোধন হবে। আর এ ট্রেনে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ সুযোগ পাবে। ঢাকা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত কোন স্টপেজ থাকবে না।

ঢাকা-পার্বতীপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগত রুটে চলাচল করবে এটি।’ এরমধ্যে ৩০ ভাগ আসন পঞ্চগড়ের বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রেনটির সম্ভাব্য নাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, হিমালয় এক্সপ্রেস, পাথরাজ এক্সপ্রেস, তীর্ণ এক্সপ্রেস বা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার পছন্দমতো কোন নামও দিতে পারেন। তিনি ট্রেনটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথিকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। পঞ্চগড় জেলা সমিতি প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পঞ্চগড়ের সকল মানুষ এক ছাদের নিচে হয়েছি এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এ সম্প্রীতির বন্ধন যেন সবসময় অটুট থাকে সে বিষয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। যখন আমরা জেলা সমিতির ব্যানারে আসবো তখন আমাদের একটাই পরিচয় আমরা পঞ্চগড়ের মানুষ।’ তিনি পঞ্চগড় জেলা সমিতির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমিতির আহ্বায়ক সফিয়ার রহমান, রাজনীতিবিদ সাবেক বিগ্রেডিয়ার ডা. শাহজাহান, নাইমুজ্জামান মুক্তা, সাবেক ছাত্রনেতা শাহনেওয়াজ প্রধান শুভসহ পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার প্রায় এক হাজার মানুষ।

সম্প্রতি সংবাদ