শিশু অপহরণের অভিযোগে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

editor ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ৫:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

রাজধানীর বনানীতে আট বছরের শিশু আবিরকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৮ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার কাঠালিয়া গ্রামের মৃত শাহবউদ্দিন খানের ছেলে মো. মশিউর রহমান (৪০) ও বরগুনা জেলার আমতলী থানার দক্ষিণ টেপুরা গ্রামের আব্দুল হাই মাতুব্বরের ছেলে মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর (৩৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৮), মো. ইকবাল হোসেন শুভ (২৮), সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন (৪৭), মো. হোসেন চন্দন ওরফে চঞ্চল, কাউসার মৃধা (২৫) ও রেজা মৃধা (৩০)।

উল্লেখ্য, রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে আসামিদের দণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরাসহ প্রথম ৮ জন আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শেষের দুইজন সহোদর এবং তারা পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জহির উদ্দিন মো. বাবর ও শাহ মো. অলিউল্যাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলাটির বিচারকালে ট্রাইব্যুনাল ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

২০১৫ সালের ১৮ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থনায় এ মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর একই থানার ইন্সপেক্টর মো. কবির হোসেন হাওলাদার ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার তদন্তকালে কয়েকজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করেন।

মামলায় বিবরণে জানা যায়, টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবির (৮)। শিশু আবির উত্তরার একটি মাদ্রাসায় পড়তো। তাকে অপহরণের জন্য প্রায় চার মাস ধরে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহ করেছিল অপহরণকারীরা। এ জন্য পল্লবীতে একটি বাসাও ভাড়া করা হয়। তারা নিয়মিত শিশুটির গতিপথ অনুসরণ করে। যে মাদ্রাসায় শিশুটি পড়ে সেই মাদ্রাসায় পরিচিত একজনের বাচ্চাকে ভর্তিও করে অপহরণকারীরা। এ ছাড়া অপহরণকারীদের সঙ্গে যুক্ত টিএনজেড গ্রুপের তিন কর্মী বিশেষ করে গাড়িচালক রেজাউল নিয়মিত তথ্য দিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২ মে শিশু আবির গাড়িতে করে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে বনানী উড়াল সড়কের নিচে অপহরণকারীরা তিনটি গাড়ি নিয়ে ওই গাড়ির গতিরোধ করে। নিজেদের একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিশুটি, ওই গাড়ির চালক ও শিশুটির তত্ত্বাবধানকারীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। প্রথমে শিশুটিকে তারা আশ্বস্ত করে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অপরাধীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে এসেছে। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তারা পল্লবীর ভাড়া বাসায় যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিশুটি কাঁদতে থাকে। অপহরণকারীরা শিশুটির বাবাকে ফোন করে তার কান্নার শব্দ শোনায়। শিশুটির মুক্তিপণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। শুরু হয় দর-কষাকষি। ওই রাতেই শিশুটিকে বহনকারী গাড়িটি ৩০০ ফুট (পূর্বাচল) সড়কে গাড়ির চালক ও তত্ত্বাবধানকারীসহ বিমানবন্দর এলাকায় ফেলে রেখে আসে অপহরণকারীরা। চার দিন দর-কষাকষির পর দুই কোটি টাকায় রফা হয়। ৬ মে তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন শাহাদাত হোসেন। এছাড়া ওই দিন সন্ধ্যায় হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ টাকা নিয়ে নিজেই অপহরণকারীদের দেন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা অপহরণকারীরা শিশু আবিরকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়। ব্যবসায়ী তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পর অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব।

র‌্যাব বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে অপহরণকারীদের টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে ২০১৫ সালের ১৭ মে আসামি রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন মো. বাবর, মিজানুর রহমান ও শাহ মো. অলিউল্যাগং আটক হয়। তাদের আটকের পর মিজানুরকে নিয়ে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তোলা হয়।

সম্প্রতি সংবাদ