ব্রেকিং নিউজ

বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

editor ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ২৭ মে ২০১৯ ,সোমবার।
মেট্রোরেলের পর ঢাকায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালু হবে৷ এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে শর্ট রুটের ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি৷ বাংলাদেশে এখনও ডিজেলচালিত ট্রেন চলে৷ ঢাকার মেট্রো রেলের মাধ্যমে দেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের ব্যবহার শুরু হবে। এরপর দূরপাল্লায়ও বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চলবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেসব রেল সংযোগ ছিল, তা বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আন্তঃ এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গেও বাংলাদেশ যাতে সংযুক্ত থাকে, সে ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা মেট্রোরেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেই সঙ্গে আমরা বিদ্যুৎচালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশ বান্ধব, তাও চালু করব। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

জ্বালানি তেলচালিত ট্রেনে দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ায় উন্নত দেশগুলো, এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশেও তেলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঢাকার একসময় হাহাকার ছিল। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। যেসব মেগা প্রকল্প এবং যে সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হচ্ছে, তাতে আমাদের বিদ্যুতের কোনও অভাব থাকবে না।’ শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার।

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে ১০ বছরের রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক এটাই যে লাভজনক নয় বলে বিএনপি সরকারের আমলে পুরো রেল যোগাযোগটাই বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। অনেকগুলো ট্রেন ও লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর আলাদা মন্ত্রণালয় গড়ে তুলে সার্বিকভাবে রেলকে যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। রেলের উন্নয়নে গত ১০ বছরে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

৬৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরও ৪৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে৷ এসময়ে ৩৭১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৪৮ কিলোমিটার মিটার গেইজ লাইন ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হয়েছে। ১০০০ কিলোমিটারের বেশি পুরনো রেলপথ মেরামত করা হয়েছে। ৬২টি বন্ধ রেলস্টেশন চালু, ৯৩টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ, ৩২৯টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৬৫৮টি রেলসেতু সংস্কারের কথাও জানানো হয় অনুষ্ঠানে। এই সময়ে ৪৬টি নতুন লোকোমেটিভ কেনা ছাড়াও ৩২০টি যাত্রীবাহী কোচ কেনা হয়েছে এবং আরও ৬৫০টি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এসময়ে মালবাহী ওয়াগন কেনা হয়েছে ৫১৬টি। এছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে রেলে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প এবং দোহাজারি-কক্সবাজার-রামু-ঘুনধুম রেল লাইন স্থাপন প্রকল্প।

সম্প্রতি সংবাদ