ব্রেকিং নিউজ

অবৈধভাবে বিদেশে না যাওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরজাপানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনায় ভাষণ

editor ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking slider-top আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

কালের কাগজ ডেস্ক: ২৯ মে ২০১৯, বুধবার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দেয়া বৈধ সুযোগ-সুবিধার বদলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে না যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

টোকিওর সিটি হোটেলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বহু লোক তাদের গন্তব্য সম্পর্কে না জেনে, চাকরির ধরন না বুঝে ভালো ভবিষ্যতের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমায়।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা বিক্রি করে টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যায়। অথচ তারা সঠিকভাবে জানে না, কোথায় চাকরি হবে অথবা কত বেতন এবং কী সুবিধা তারা পাবে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি যথাযথভাবে সবকিছু জেনে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রথমে ডিজিটাল কেন্দ্রে আপনার নাম (বিদেশে চাকরিপ্রত্যাশীদের) নিবন্ধন করুন এবং পরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সবকিছু জেনে বিদেশে যান। এ প্রসঙ্গে

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য বিদেশে চাকরিপ্রার্থীরা সেখান থেকে ঋণ নিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে সরকার সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ অনেকগুলো চাকরির সুযোগ সৃষ্টিকারী প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং খাদ্যশস্য, শাকসবজি, ফল, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর একটা লক্ষ্য আমার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার বদলে দেশের এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দূতাবাসের উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার খুঁজে বের করুন।

জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদার আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং তারা আমাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ (১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ শেষে) পুনর্গঠনে প্রচুর সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক প্রমাণ করতে ক্ষমতায় আসার পরপর আমি জাপান সফর করি।

এ প্রসঙ্গে তিনি সোনারগাঁও হোটেল ও যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং পদ্মা সেতু নির্মাণে সমীক্ষা পরিচালনায় জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জাপানের আরও বিনিয়োগ কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগে তাদের আকর্ষণ করতে আমরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জমি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে তার সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, আমরা মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি।

শিশুদের আমরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, দুই প্রবাসী বাংলাদেশি সালেহ মোহাম্মদ আরেক ও সাকুরা সাবের বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে তার ১২ দিনের ত্রিদেশীয় সফরের উদ্দেশে মঙ্গলবার বিকালে জাপান পৌঁছেছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় (জাপান সময়) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাপানের হানিদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে এবং টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরের প্রথমে জাপানে ২৮-৩১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ফিউচার এশিয়া শীর্ষক ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন। তিনি সেখানে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। শেখ হাসিনা সেখানে তার সম্মানে বাংলাদেশি কমিউনিটির দেয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এ ছাড়াও তিনি হলি আর্টিজানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাপানের সফর শেষ করে শেখ হাসিনা জেদ্দার উদ্দেশে টোকিও ত্যাগ করবেন। তিনি ৩ জুন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।

সৌদি আরব সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ১৪তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে মক্কা

নগরীতে ৩১ মে ‘মক্কা সামিট : টুগেদার ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক ইসলামি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে পবিত্র ওমরা পালন করবেন। সৌদি আরব সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ জুন ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকির উদ্দেশে জেদ্দা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ৪ জুন ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

আজ সকালে হোটেল নিউ অটনিতে প্রধানমন্ত্রী জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল সভা করবেন। একই দিন বাংলাদেশে হলি আর্টিজানে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকালে তিনি জাপানি প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভায় মিলিত হবেন। আলোচনা শেষে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত এবং যৌথ ঘোষণা পাঠ করা হবে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানি প্রধানমন্ত্রীর বাসায় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন।

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী ইমপেরিয়াল হোটেলে নিক্কেই সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন। শেখ হাসিনা পরে একই স্থানে ভবিষ্যৎ এশিয়া বিষয়ক ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং বক্তৃতা করবেন। পরে জাইকার সভাপতি শিনিচি কিতাওকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিক্কেই কনফারেন্স নৈশভোজে অংশ নেবেন। এখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন প্রধান বক্তা।

শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে (জাপান সময়) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মক্কায় ওআইসির ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য জেদ্দার উদ্দেশে হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।

শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় ৫টা ২৫ মিনিটে বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন এবং সন্ধ্যায় তিনি মক্কার সাফা প্রাসাদে ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শুক্রবার মক্কায় ওআইসির ইসলামিক সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনের আয়োজন করেছে সৌদি আরব।

৩১ মে ও ১ জুন রাত সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের প্রথম কর্ম-অধিবেশনে অংশ নেবেন এবং রাত দেড়টায় অংশ নেবেন দ্বিতীয় কর্ম-অধিবেশনে।

তিনি রাত আড়াইটায় সমাপনী অধিবেশনে এবং পরে সাফা প্রাসাদে সুহুর ভোজে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় তিনি ওমরা পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২ জুন সকালে বিমানে মদিনার উদ্দেশে জেদ্দা ত্যাগ করবেন এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে ফাতেহা পাঠ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি বিমানে জেদ্দার উদ্দেশে মদিনা ত্যাগ করবেন।

৩ জুন ১টা ১০ মিনিটে তিনি ফিনল্যান্ডের হেলসিংকির উদ্দেশে জেদ্দা ত্যাগ করবেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় তিনি হেলসিংকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। ৪ জুন তিনি ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ৭ জুন ফিনল্যান্ডের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফিনল্যান্ডের বিমান ফিনএয়ারে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে হেলসিংকি বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। সুত্র:বাসস

সম্প্রতি সংবাদ