মসজিদের দানবাক্সের টাকায় নিজের উন্নয়ন করে কোটিপতি বিএনপির সামাদ মুন্সি

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৯ মে -২০১৯,বুধবার।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সেই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিএনপি সমর্থিত আবদুস সামাদ মুন্সি মসজিদের উন্নয়ন ও দানবাক্সের আয়ের টাকায় নিজের উন্নয়নের জন্য মেরে দিয়ে কোটিপতি বনে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের জামায়াত নেতা মৃত নোয়াব আলী বেপারীর ছেলে সামাদ মুন্সি। বাবা জামায়াতে ইসলামের নেতা হলেও তিনি সুযোগ বুঝে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সামাদ মুন্সি অবৈধভাবে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুসল্লি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, সামাদ মুন্সির লেবাস এক রকমের আর কাজ করেন আরেক রকম।

এলাকাবাসী জানান, সামাদ বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ। সেই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাবিবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হন। এরপর থেকে সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও তিনি বহাল থাকেন সভাপতি পদে।

কয়েকজন স্থানীয় মুসল্লি জানান, মসজিদের আয় হলেও উন্নয়ন না করে লুটেপুটে খাচ্ছেন সভাপতি। হাবিবপুর গ্রামের হাসান, শাহিন, খোরশেদ, ফারুকসহ আরো অনেকেই জানান, মসজিদের টাকার পাশাপাশি বিএনপি সরকার থাকাকালীন সময়ে সামাদ মুন্সি নিরীহ লোকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সামাদ মুন্সির বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ‘মসজিদের জন্য চাঁদা তুলে কোটিপতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করায় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, ফলের দোকান থেকে শুরু করে টং ও মার্কেটের দোকানেও মসজিদের নামে চাঁদা তোলেন বিএনপি নেতা সামাদ মুন্সী।

এ ছাড়া তিনি ২৫ বছর ধরে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন। এভাবে চাকরি বা ব্যবসা না করেও তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

সম্প্রতি সংবাদ