ব্রেকিং নিউজ

দৌলতপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফএর চাউল বিতরনের অনিয়মের অভিযোগ

editor ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।। ৩১ মে-,২০১৯,শুক্রবার।
মানিনকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফএর চাউল বিতরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন সরেজমিনে গিয়ে এই অনিয়নের সতত্যা পেয়েছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার যান দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন দুর্গম বাচামারা গিয়ে দেখতে পান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তার পরিষদের গুদামে ২০৮ বস্তা ভিজিএফএর চাউল মজুদ রেখেছেন। অথচ মজুদকৃত চাউল গুলো বাচামারা ইউনিয়নের ১,২,৩,৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের সুবিধা ভোগীদের মাঝে বিতরনের কথা ছিলো। তিনি দুপুরের দিকে বাচামারা বাজারে উপস্থিত হলে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার রওশন আলীর নেতৃত্বে শতাধিক স্থানীয় লোকজন উপজেলা নিবাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন ঈদ উপলক্ষে দুস্থ্যদেও জন্য বরাদ্দকৃত ২০৮ চাউল বিতরন না কওে আত্বসাতের উদ্দেশ্যে পরিষদেও গুদাম ঘরে মজুদ রেখেছে।
এসময় স্থানীয় ভুক্তভোগী মানিকুল শেখ, আতাব শেখ, মহিদুল ইসলাম, গোলাম রব্বানী, রেণু বেগম, মান্নান সিকদার, আব্দুস সালাম, নবিরন বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও কাছে অভিযোগ করেন তাদের নামে ভিজিএফএর চাউল বরাদ্দ ছিলো তাদেরকে চাউল না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে।

 

এসময় অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতরনকৃত মাষ্টার রোলে এর সত্যতা পান। তিনি দেখেন ভুক্তভোগীদের নাম দিয়ে মাষ্টার রোল বানানো হয়েছে। এছাড়া মাস্টার রোলে ভুক্ত ভোগীদের টিপসহির ঘরে টিপসহি ফিলাপ করা হয়েছে অথচ চাউল দেওয়া হয়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভৃক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ছাড়াই চাউল বিতরনের সব আয়োজন করছেন।পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজের মুঠোফোন থেকে ওই ইউনিয়নের দায়িত্ববান ট্যাগ অফিসার উপজেলা কৃষি বিভাগের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে ফোন করে নিশ্চিত হন তিনি চাউল বিরতন যখন হচ্ছিল তখন তিনি নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন।
এব্যপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার ট্যাগ অফিসার সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও অনুপস্থিত রয়েছেন মর্মে লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা  অভিযোগ করেছেন, জনপ্রতি ১৫ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের দেওয়া হয়েছে ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১০ কেজি করে।
এব্যপারে বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের জানান, সময় মতো নৌকা না পাওয়ায় চাউল গুলো পরিষদের গুদামে রাখেন তিনি। এছাড়া যেসব  ৫০ জন ভুক্তভোগী চাউল পাননি তাদের পরে চাউল দেওয়া হবে বলে জানান।
এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসত উদ্দেশ্যে চাউল বিতরন না করে গুদামে মজুদ রেখেছিলেন। এছাড়া ট্যাগ অফিসার চাউল বিতরনের সময় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি দায়িত্ব অবহেলা করে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া মাস্টার রোলে যাদের নাম রয়েছে কিছু সংখ্যক দু:স্থ্য মানুষ চাউল পাননি  অথচ তাদের নামের ঘরে টিপসহি  দেখা গেছে।  যে পরিমান চাউল দেওয়ার কথা  তা না দিয়ে পরিমানে কম দেওয়া নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।###

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ