ব্রেকিং নিউজ

দৌলতপুরে পুলিশে চাকরি পেলো ৩৪ তরুণ-তরুণী । রুনার বাবার স্বপ্ন পুরন হলো

editor ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: :১১ জুলাই ২০১৯,বৃহস্পতিবার।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় মেধার যোগ্যতায় বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলো ৩৪ তরুণ-তরুণী। শৈশবের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যৌবনে পা দিয়ে জীবন যুদ্ধের স্বপ্ন জয়ে পুলিশে চাকরি পেয়ে মহাখুশি ৩৪ তরুণ-তরুণী। পাশাপাশি আনন্দের বন্যা বইছে ওইসব পরবিারে। কোনো উৎকোচ বা ঘুষ ছাড়াই যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেনিং রিক্রুটিং কনস্টেবল পদে সদ্য নিয়োগে দৌলতপুরে  হতদরিদ্র পরিবারের ৩৪ তরুণ-তরুণী দেশ-সেবার মহান পেশায় যুক্ত হওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।
কথা হয় পুলিশে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত দৌলতপুর উপজেলার বিল কালিদহের মৃত হরযত আলীর কলেজ পড়ুয়া কন্যা রুনা আক্তারের সঙ্গে।অনেক আগেই তার বাবা মারা যান। অভাবের সংসারে তার ভাই জাহিদুল ইসলাম ভাড়ায় মটরসাইকেল চালায়। রুনা নাগরপুর মহিলা কলেজে লেখা পড়া করে । পুলিশে লোক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেখে মাত্র ১০৩ টাকায় আবেদন করে পুলিশের চাকুরী এটা যেন সোনার হরিণ। রুনা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বড় হয়ে পুলিশে চাকুরী করবো। বাবার স্বপ্ন পুরন হলো কিন্তু আমার বাবা দেখে যেতে পারলো না । মাত্র এক’শ তিন টাকায় আবেদন করে পুলিশের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীায় কৃতকার্য হয়ে প্রাথমিক নিয়োগ লাভের পর সে ও তার পরিবার আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপি এবং মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার স্যারকে ধন্যবাদ জানাই বিনা পয়সায় আমাদের চাকুরী দিয়েছেন।

কথা হয় পুলিশে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত দৌলতপুর উপজেলার খলসী এলাকা আসাদুল্লাহ মিয়ার সাথে । সে মানিকগঞ্জ জেলায় ৯ শত প্রার্থী নিয়োগ পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে তার মধ্যে আসাদুল্লাহ মিয়া প্রথম স্থান অধিকারী। তার বাবা আফজাল শেখ পেশায় একজন রিকশা চালক। বাবার উপার্জনের টাকায় কোনোমতে সংসারের পাশাপাশি আসাদুল্লাহর লেখা-পড়া খরচ চালাত। স্কুল-কলেজে নিয়মিত কাশ না করলেও এসএসসি ও এইচএসসি পরিায় সাফল্যের পর চাকুরির জন্য আবেদন করে পুলিশ বাহিনীতে। সদ্য নিয়েগে মেধা ও যোগ্যতায় ‘সোনার হরিণ’ ধরা দেয় আসাদুল্লাহর হাতে।

দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সুনীল কুমার কর্মকার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে উৎকোচ, ঘুষ বা তৎবির ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি অবিশ্বাস্য হলেও এবারের নিয়োগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি  মহোদয়ের নির্দেশে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম (পিপিএম) স্যার  দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

ওসি বলেন,  রুনা,বিথী,সেলিম,মিনিয়া,সিরাজুল দের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা মেধা ও যোগ্যতায় পুলিশে চাকরি লাভ করায় এ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জল হবে।বাহিনীর ভাবমূর্তি অুন্ন রাখতে পুলিশ সুপার মহোদয়ের বিশেষ নির্দেশনায় আন্তরিকতা ও নিষ্টার সহিত গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে কনস্টেবল পদে সদ্য নিয়োগে জেলার ১৩১ জনের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ৩৪ তরুণ-তরুণী প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকেই পিতা-মাতা হারা। আবার কেউ-কেউ অতিদরিদ্র কৃষক, দিনমুজুর, রিকশা-ভ্যান,মাটিকাটার শ্রমিক,মটরসাইকেল চালকের কাজ করছেন।###

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ