নাগরপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে পত্রবধূ ধর্ষণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ঃ0৮ সেপ্টেম্বর-রবিবার।

নাগরপুরের মোকনা ইউনিয়নের করটিয়া কাজীবাড়ী গ্রামের সাইজুদ্দিনের বিরুদ্ধে তার পত্রবধূ দুই সন্তানের জননীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষিতার মামা সোহেল রানা লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ধর্ষক সাইজুদ্দিনের পুত্র রুবেল এর সাথে তার ভাগ্নীর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান ও আড়াই বছরের পুত্র সন্তান হয়। পরিবারের চাহিদা পূরণ করার জন্য এক বছর পূর্বে রুবেল বিদেশ চলে যায়। পুত্র বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকে ধর্ষক সাইজুদ্দিনের কুনজর পরে তার পত্রবধূর উপর। লম্পট শ্বশুর দিনের পর দিন পত্রবধূর ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে কুপ্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি শ্বাশুড়িকে জানালে তিনি বিশ্বাস করে না। পরবর্তীতে পত্রবধূ প্রকৃতির ডাকে বাহিরে গেলে লম্পট শ্বশুর ঘরের ভিতর ডুকে ওৎ পেতে থাকে। পত্রবধূ ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ধর্ষক পিছন থেকে এসে মুখ চেপে ধরে এবং চিৎকার করলে তার দুই সন্তানকে হত্যা করে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সন্তানের কথা চিন্তা করে ঘটনা তার শ্বাশুরিকে জানায়। ঘটনা শুনে শ্বাশুড়ি ক্ষিপ্ত হইয়া সাইজুদ্দিনকে দা দিয়ে খুন করতে যায়। পরবর্তীতে ধর্ষক সাইজুদ্দিন তার পত্রবধূর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় যাতে আত্মীয় স্বজন ও স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। এক পর্যায়ে ঘটনা সমস্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ধাপাচাপা দিতে লম্পট শ্বশুর নিজ স্ত্রীকে তালাক দেয়ার হুমকি প্রদান করে মুখ বন্ধ রাখে। পরে পূত্রবধূ কৌশলে বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে তিনি তার পিতাকে গালি-গালাজ করেন। এক পর্যায়ে পুত্রবধু’র পিতার বাড়ী থেকে নিতে আসলে সে পিতার বাড়ী চলে যায়। কিছুদিন পর স্বামী রুবেল দেশে ফিরে এসে পিতা-মাতার কাছে ঘটনা শুনে বউকে ফোন করে বলে “তোমার সাথে সংসার করা সম্ভব না” বলে তালাক দিয়ে পুনরায় বিদেশ চলে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বরদের জানালে তারা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেভ না নেওয়ায় নিরুপায় হয়ে গত ২৯ আগষ্ট শ্বশুর সাইজুদ্দিনকে আসামী করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ৩৫৫নং মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ষিতা বধূ, মা নাছিমা বেগম, ছোট ভাই রাকিব মিয়া, মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সোহেল রানাসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ