রংপুর-৩ উপনির্বাচনরাজু নৌকা, সাদ লাঙ্গল আর রিটা লড়বেন ধানের শীষে

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

কালের কাগজ ডেস্ক:০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার।
রংপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বড় তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। নৌকা নিয়ে লড়বেন মো. রেজাউল করিম রাজু। তিনি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ধানের শীষে লড়বেন রিটা রহমান। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি তার দল পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে একীভূত হয়েছেন। জাতীয় পার্টির এ ঘাঁটিতে লাঙ্গল নিয়ে লড়বেন দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ। মনোনয়ন পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন প্রার্থীরা।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র জমা ৯ সেপ্টেম্বর, বাছাই ১১ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় মো. রেজাউল করিম রাজুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ১৬ জন। রাজুকে মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতায় তিনি নৌকার প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন না বলে গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিতে পারেন এরকম আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের রংপুর মহানগর কমিটির এক শীর্ষ নেতা। রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি সাফিউর রহমান সফি এ ধরনের বক্তব্যকে গুজব বলে অখ্যায়িত করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত দলের প্রার্থী রাজু। আমরা এখন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব কিছুই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ওপর। আগে বলা মুশকিল। রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে। সেটা রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে নানা আলোচনার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা রোববার প্রার্থী হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদের নাম ঘোষণা করেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দলটির মধ্যে আলোচনা চলছিল। এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদসহ ৫ জন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। বাকি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- এরশাদের ভাগনি (মেরিনা রহমানের মেয়ে) মেহেজেবুন নেছা টুম্পা, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর-উজ-জামান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। তবে শনিবার রাতে রওশন ও কাদেরপন্থীরা একত্রিত হয়ে সুরাহা করেন। সমাধান সূত্র হল- জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান থাকবেন আর রওশন এরশাদ হবেন বিরোধীদলীয় নেতা। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এ ঘোষণা দেন। এরপরই তিনি রংপুর-৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এ আসনে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা জানান। রিটা রহমান পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের (পিপিবি) প্রধান ছিলেন। এ দলটি ২০ দলীয় জোটের শরিকও ছিল। জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর রোববারই নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে একীভূত হয়েছে রিটার পিপিবি। বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে এ আসনে রিটাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। রিটা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে।

রোববার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক বিবৃতিতে বলেছেন, রিটা রহমানের নেতৃত্বে পিপিবি বিলুপ্ত করে বিএনপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিএনপি। রিটা রহমানের নেতৃত্বে পিপলস পার্টির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করবে বলে বিএনপির প্রত্যাশা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিটা রহমান যুগান্তরকে বলেন, রোববার সকালে আমরা দলীয় নেতারা বৈঠক করেছি। সেখানে সবাই বিএনপিতে একীভূত হওয়ার পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেন। দলীয় সিদ্ধান্তেই আমরা বিএনপিতে একীভূত হয়েছি। এখন বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই আমি রংপুরে ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করব।

এদিকে গুলশান কার্যালয়ে শনিবার রাতে দলের মনোনয়ন বোর্ড সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়। প্রার্থী হিসেবে সদ্য প্রয়াত মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া হোসেন, রংপুর মহানগর সহ-সভাপতি কাওসার জামান বাবলা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা সাধারণ সম্পাদক রইসউদ্দিন ও পিপিবি চেয়ারম্যান রিটা রহমান সাক্ষাৎকার দেন। বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। কয়েক নেতা রিটা রহমানকে প্রার্থী না দেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে কেউ কেউ তার পক্ষ নিয়ে কথা বলেন, রিটা রহমান স্থানীয়ভাবে ততটা সক্রিয় না হলেও জাতীয়ভাবে তার পরিবারের পরিচিতি আছে। তাছাড়া গত নির্বাচনে নানা অনিয়মের পরও তিনি ভালো ভোট পেয়েছেন। বিএনপিপন্থী কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও রিটা রহমানের পক্ষে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।

রিটাকে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমরা যারা তৃণমূলে রাজনীতি করি তারা বর্তমান সরকারের আমলে জেল-জুলুম ভোগ করে দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখছি। তাদের মধ্যে আমিসহ অন্তত ৫ জন ছিলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী। তা উপেক্ষা করে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেয়ায় আমরা হতাশ-ক্ষুব্ধ। ভোটের বাক্সে এর প্রভাব পড়বে। রিটা রহমানের পারিবারিক অতীত নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতাকর্মীরা। তার স্বামী পলাতক মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার আসামি। যা নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে।

১২ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ : রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন জানান, রোববার পর্যন্ত ১২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এরা হলেন- জাতীয় পার্টির এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, রাহগীর আল মাহী সাদ এরশাদ, এসএম ইয়াসির, স্বতন্ত্র আসিফ শাহরিয়ার, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, আবদুল মজিদ, বিএনপির কাওছার জামান বাবলা, বিশ দলীয় জোট প্রার্থী পিপলস পার্টির রিটা রহমান, এনপিপির শফিউল আলম, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, গণফ্রন্টের মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

সম্প্রতি সংবাদ