ঈশ্বরগঞ্জের সদর ভুমি তহসিলদার লুৎফর রহমানেরবিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

editor ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

হাবিবুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জ(ময়মনসিংহ) :১৫ সেপ্টেম্বর-২০১৯,রবিবার।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সদর ভুমি অফিসের তহসিলদারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সদর ভুমি অফিসের তহসিলদার মো. লুৎফর রহমান ঘুষের বিনিময়ে নাম জারি খারিজ, খাজনা আদায়ে ভুমি মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে ৭/৮জন ভুমি মালিক।
অভিযোগে জানা যায়, পৌর সদরের দত্তপাড়া মৌজার বি আর এস ৩৭২ খতিয়ানের ৪৫৪০, ৪৫৪১, ৪৬৭৪ দাগের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভুমির মালিক আমিনুল হক কামালগং ভোগ দখলকার থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছে। ওই জমির খাজনা পরিশোধ করতে ভুমি অফিসে গেলে আমিনুল হক কামালের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। সে সরকারি নিয়মের অতিরিক্ত টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে তহসিলদার তাকে জমি প্যারি প্যারি দেখিয়ে সরকারের হাওলায় নিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদের হুমকীদেয়।
পৌর সদরের চরনিখলা মৌজার বি আর এস ২০ নং খতিয়ানের ১১২৮, ১১৩৭ দাগের ৬০ শতাংশ জমির আ: কাদির খাজনা পরিশোধ করতে গেলে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। শিমরাইল মৌজার বি আর এস ১০০ নং খতিয়ানের ১০৯১, ১১২৩ ও ১১২৫ নং দাগের ০.৮২০০ একর জমির উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক চাঁন মিয়া ২৭ আগস্ট খাজনা পরিশোধ করতে গেলে তার কাছে তহসিলদার ২০হাজার টাকা দাবি করে।
দত্তপাড়া মৌজায় মৃত্যুঞ্জয় লাহিরী অভিযোগ করেন তিনি ও তার শ্যালক সাফ কাওলা দলিল মূলে ক্রয় করে মালিক হয়ে নাম জারি খারিজ করেন ২০১৫ সনে। যাহার খতিয়ান নং ১১৮৭। পরে শ্যালকের অংশের জমি তার স্ত্রী ছলনা চক্রবর্তীর নামে শ্যালক দানপত্র দলিল করে দেয়। উক্ত জমি নামজারি খারিজ করার জন্য অন লাইনের মাধ্যমে আবেদন করা হলে ৮৭/২০১৯ নং মিস কেইস লিপিবদ্ধ হয়। এই নাম জারির বিষয়ে ২৮ আগস্ট তহসিলদার লুৎফর রহমানের কাছে গেলে তিনি নাম জারির জন্য ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতো টাকা লাগবে কেন জানতে চাইলে জমির মালিককে তিনি জানান উপর মহলকেও প্রতি খারিজে টাকা দিতে হয়।
অপরদিকে উপজেলার বল্লবপুর গ্রামের আজিজুল হকের পিতা আ: মজিদ মুজাটিয়া লক্ষ্মীগঞ্জ মৌজায় ৩০/৩৫ বছরপূর্বে ১ নং খতিয়ানের ০.০৭৫ শতাংশ ভুমি চিরস্তায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসে। তাকে কোন প্রকার নেটিশ প্রদান না করেই দোকান ঘর ভঙিয়া উচ্ছেদ করে ভুমি অফিস। পরে মোট অংকের টাকার বিনিময়ে উপজেলা ভুমি অফিসের সহকারী আতাউল করিম সেলিম, সাবেক সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম একই বাজারের সরকারি খাস জমি ৪৬জন ব্যক্তিকে একসনা লিজ প্রদার করে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদনের প্রেক্ষিতে সেটেলমেন্ট রেকর্ডরোম শাখা ০৫.৪৫.৬১০০.০২৪.২৫.০২০.১৭.৩৬ নং স্মারক মূলে দতন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ময়মনসিংহ এম রকিবুল হাসান চলতি বছরের ৯ এপ্্িরল শুনানী গ্রহনের পর ৫ মাসেও এর কোন ফলাফলা অভিযোগ কারীকে অবহিত করা হয়নি। এবং আজিজুল হকের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বন্দোবস্ত কৃত জমি ফেরতের জন্য আদালতে মামলায় ডিক্রি হওয়ার পরও ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা হয়নি।
ঈশ্বরগঞ্জ সদর ভুমি অফিসের তহসিলদার লুৎফর রহমান বলেন, খাজনা আদায়ে সরকারি নিয়মের বাইরে কারো কাছে এক টাকা চাওয়া হয়নি গত তিন বছরে এমন কোন প্রমান নেই। নামজারি করার ক্ষেত্রে আবেদন কৃত দাগে যদি সরকারের কোন দপ্তরের জমি থাকে তাহলে সংক্লিষ্ট দপ্তরের অনাপত্তি পত্র নিয়ে খারিজ করার নির্দেশ তাই লাহিরী বাবুর নামজারি খারিজ করা যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে টাকা চাওয়ার কোন কারণ নেই।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে রুমানা তুয়া’র মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ##

সম্প্রতি সংবাদ