ব্রেকিং নিউজ

মৌলভীবাজারের কোদালিছড়ায় গাইড-ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণে এলজিইডি”র ২৩ কোটি টাকা অনুমোদন

editor ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার-০২ অক্টোবর-২০১৯,বুধবার।

মৌলভীবাজার শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খাল কোদালিছড়ায় গাইড-ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য ২৩ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি)।

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান জানান, সোমবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে এ প্রকল্প অনুমোদন করেছে এলজিইডি।
এখন যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র আহ্বান শেষে কাজ শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে এ বছরের শেষ দিকে কাজ শুরু করা যাবে।

২৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পে রয়েছে: দৃষ্টিনন্দন গাইড-ওয়াল (প্রতিরক্ষা বাঁধ)। থাকবে ফল ও ফুলের গাছে সু-শোভিত ওয়াকওয়ে (পায়ে হাঁটা পথ)। থাকবে ছাউনিসহ বসার জায়গা ও ল্যাম্প-পোস্ট।

নারী-পুরুষের জন্য আলাদা টয়লেট (শৌচাগার) এবং ওয়াশ-ব্লক। চলবে নৌকা।

কোদালিছড়ার শহর অংশে ২ হাজার ৬০০ মিটার এলাকায় এ উন্নয়ন কাজ হবে। দৃষ্টিনন্দন লাইটিংয়ে নজর কাড়বে সবার।

মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন পানি প্রবাহের পাশাপাশি কোদালিছড়া হবে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কাজ বাস্তবায়ন শেষে একদিকে খালের পার ভাঙ্গনরোধ হবে, আগের মতো ভরাট হবেনা, বাড়বে পানি প্রবাহ। পাশাপাশি দু’পারের ফুলে ফুলে সু-শোভিত পায়ে হাঁটা পথ শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। বাড়বে পর্যটন সম্ভাবনা।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, কোদালিছড়ার নকশা ও ইস্টিমেট (প্রাক্কলিত ব্যয়) অনুমোদন হয়েছে। টিবি হাসপাতাল এলাকা থেকে জালালাবাদ গ্যাস অফিস পর্যন্ত ২৬০০ মিটার ডিজাইন করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ডা. এম এ আহাদ বলেন, অদম্য চেষ্টা আর সৎ উদ্যোগ থাকলে অনেক কঠিন কাজও বাস্তবে এসে ধরা দেয়। এর জ্বলন্ত প্রমাণ কোদালিছড়া এবং মেয়র ফজলুর রহমান।

সকাল থেকে রাত, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফজলুর রহমান কোদালিছড়ায় সময় দিয়েছেন। অমানবিক পরিশ্রম করেছেন। সকল পর্যায়ের মানুষকে যুক্ত করেছেন। এখন সেই প্রচেষ্টার ফল আমরা পেতে

যাচ্ছি। ডা. আহাদ বলেন, এরকম মেয়র আর তাঁর কাজ বাংলাদেশ তো বটেই, পুরো বিশ্বে শো-কেস করা মতো।

এ ব্যাপারে মেয়র ফজলুর রহমান আরো বলেন, ‘এটা শহরবাসির দীর্ঘ আকাংখার প্রতিফলন। এজন্য অনেক পরিশ্রম ও সাধনা করতে হয়েছে। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।

এতে অনেকেরই অবদান আছে। সংসদ সদস্য মহোদয়গণ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকগণ, গড়ব স্বপ্নের শহরের উদ্যোক্তা, ক্রিকেটার, ফুটবলার, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসকসহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। নাগরিকগণ তো আছেনই।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী খলিলুর রহমানকে। যিনি নিজে মৌলভীবাজারে এসে কোদালিছড়া পরিদর্শন করে নকশা অনুমোদন করেছেন।

মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, অনেকেই ফেসবুকে লেখালেখি করে বিষয়টি সামনে এনেছেন, অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার বিজনেস ফোরামের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম কামরান বলেন, ‘মেয়র ফজলুর রহমানের অদম্য ইচ্ছায় এই কাজটি সম্ভব হয়েছে। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এটা অনেক বড় উদ্যোগ। বিগত ৫০ বছরে যে কাজ হয়নি, সেই ‘অসম্ভব’ কাজ সম্ভব হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মেয়র মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

গড়ব স্বপ্নের শহরের অন্যতম উদ্যোক্তা ডোরা প্রেন্টিস বলেন, ‘কোদালিছড়ায় গাইড-ওয়াল হবে। ফুলে ফুলে সু-শোভিত পায়ে হাঁটা পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করবে। ছড়ায় (খালে) চলবে নৌকা। শহরবাসি হিসেবে এটা ছিলো স্বপ্নের মতো একটা চাওয়া। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে চলেছে, ভাবতেই ভালো লাগছে। দিনরাত, সকাল-দুপুর, ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে মেয়র মহোদয় নাগরিকেদর সেই অসম্ভব এক চাওয়াকে বাস্তব রূপ দিচ্ছেন।

এমন একটা উদ্যোগ দেশে-বিদেশে সমাদৃত হবে বলে আমার মনে হয়।’সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা আমাদের দিবাস্বপ্ন কে বাস্তব রূপ দিতে পেরেছি এমন সহযোগিতা আমাকে আপনাকে আরো স্বপ্ন দেখাবে। আমাদের শহরকে আমরাই পারি অন্যদের কাছে জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে।

প্রসঙ্গত মৌলভীবাজার শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খাল- কোদালিছড়া। দিনদিন ভরাট ও সংকুচিত হয়ে পানি প্রবাহ কমে আসছিলো। এ অবস্থায় মেয়র ফজলুর রহমানের উদ্যোগে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শহরবাসির অংশগ্রহণে স্বেচ্ছাশ্রমে কোদালিছড়া খনন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামে শহরের হাজারো মানুষ। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, রাজনীতিবিদসহ সকল সংগঠন ও সংস্থা এগিয়ে আসে। তৈরি হয় এক নতুন উদাহরণ।

পরে পৌরসভার উদ্যোগে এক্সাভেটর দিয়ে কোদালিছড়া খনন করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের বাইরের অংশ খনন করা হয়।

 

সম্প্রতি সংবাদ