ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরের ঐহিত্যবাহী নিরিবিলি হোটেল ৬ ভাইকে বঞ্চিত করেএকক নামে কুক্ষিগত করার অভিযোগ প্রদীপ প্রসাদের বিরুদ্ধে

editor ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :০৩ অক্টোবর-২০১৯,বৃহস্পতিবার।

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য খাবারের হোটেল ‘নিরিবিলি’র সকল সম্পত্তি ৬ ভাইকে বঞ্চিত করে একক নামে কুক্ষিগত করেছে প্রদীপ প্রসাদ এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওয়ারিশান সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র সংশোধন করার সময় বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পুরো শহর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বঞ্চিত ভাইয়েরা পৌর প্রশাসন সহ প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে সহযোগিতার জন্য ধর্ণা দিয়ে চলেছে।
জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক রোডস্থ নিরিবিলি হোটেলটি সেই পাকিস্তান আমলেই গড়ে তোলেন বিশিষ্ট মারওয়ারী ব্যবসায়ী শ্রী ভুবনেশ^র প্রসাদ জয়সোয়াল। দীর্ঘ দিন থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে মানসম্পন্ন মিষ্টান্নসহ নানা মুখরোচক খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। চলতি বছরের ২৪ মে তিনি শহরের শহীদ বদিউজ্জামান সড়কস্থ নিজ বাস ভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া বৃহৎ জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই হোটেলসহ শহরের অন্যান্য সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা কথা উঠে।
এমতাবস্থায় ৭ ভাইয়ের মধ্যে তা বন্টনের জন্য ওয়ারিশান সনদপত্র তৈরীর জন্য আবেদন করা হয় সৈয়দপুর পৌরসভায়। কিন্তু তার আগেই প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, নিরিবিলি হোটেলের বর্তমানে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভুবনেশ^র প্রসাদের ছেলে প্রদীপ প্রসাদ ইতোমধ্যেই সকল সম্পত্তি নিজে একাই কুক্ষিগত করতে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করেছেন। এ খবরে তীব্র দ্বন্দ্ব বেধে যায় ৭ ভাইয়ের মধ্যে। তারা ঘটনাটির প্রেক্ষিতে খোজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পৌর প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, হিন্দু সম্প্রদায়ের হর্তাকর্তাদের দ্বারস্থ হয়।
এ নিয়ে কয়েকবার বিভিন্ন স্থানে দেন দরবারও হয়। কিন্তু কোনভাবেই প্রদীপ প্রসাদ তার অবস্থান থেকে সরে না আসায় বিষয়টি শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি প্রদীপ প্রসাদের পরিবার সংক্রান্ত নানা তথ্য বেড়িয়ে আসতে থাকে। ভুবনেশ^র প্রসাদের সন্তানদের মধ্যে কেউ এমনটা করতে পারে তা যেন কারওই বিশ^াস হচ্ছেনা। কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটেছে বলে অন্য ৬ ভাইয়ের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে প্রদীপ প্রসাদের সাথে তার মুঠোফোন নম্বর ০১৭৮০৯৬৪২৪৫ এ যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মূলতঃ তার বাবা তাকে নিরিবিলি হোটেল জীবিত অবস্থাতেই দিয়ে গেছেন। যে কারণে বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি এই হোটেলটি পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত ভাইয়েরা তার সাথেই আছেন। শুধুমাত্র ভারতে অবস্থানরত রমেশ জয়সোয়াল রিংকু ভারতীয় নাগরিক হয়েও বাবার সম্পত্তিতে অংশ দাবি করায় একটু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে। (ছবি আছে)

সম্প্রতি সংবাদ