মণিরামপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলের প্রাণ বাঁচাতে অসহায় পিতার আকুতি

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবু বক্কার সিদ্দীক মনিরামপুর(যশোর) প্রতিনিধি ॥:২৫ অক্টোবর-২০১৯,শুক্রবার।
স্ত্রী প্যারালাইজড হয়ে প্রায় বছর দশেক ধরে শয্যাশায়ী, এক বোন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, তার ওপর ছেলের ক্যানসার। এদের চিকিৎসা ব্যায়ভার মেটাতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন, আব্দুস সালাম নামের এক অসহায় পিতা। এখন ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলে মুতাসিম বিল্লাহ’র জীবন বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে চিকিসার খরচ জোগাতে সমাজের দানশীল ও বিত্তবানদের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
আব্দুস সালাম যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া ফাজিল মাদরাসার এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষকতা করে ৬/৭ জনের সংসার চলে। সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে শেষ সম্বল একখন্ড জমি বিক্রি করে আলিম পাশ করার পর ছেলে মুতাসিম বিল্লাহকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠালে প্রবাসেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। সেখানে চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার অন্ডকোষে ক্যান্সার ধরা পড়লে বাধ্য হয়ে ফিরে আসে বাড়িতে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে পিতা আব্দুস সালামের। একদিকে সংসারের ঘানি অন্যদিকে ছেলের দুরারোগ্যে ক্যান্সার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে আত্বীয়-স্বজন, বিভিন্ন সমিতি থেকে ধার দেনা করে এক প্রকার নিঃশ্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ছেলের চিকিৎসায় এখন প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। চিকিৎসা ব্যায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বিধায় তিনি সমাজের দানশীল ও বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত মুতাসিম বিল্লাহ’র পিতা আব্দুস সালাম বলেন, তার স্ত্রী ব্রেইন স্ট্রোকে প্যারালাইজড হয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছে। চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে মুতাসিম বিল্লাহ দ্বিতীয়। সে ২০১১ সালে জালঝাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে আলীম পাশ করে। সংসারের অভাব-অনটন দুর করতে মুতাসিমকে ২০১১ সালের জুলাই মাসে শেষ সম্বল একখন্ড জমি বিক্রি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠান। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের প্রথম দিকে অসুস্থ্য পড়ে সে। এরপর সেখানে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তার অন্ডকোষে ক্যানসার ধরা পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হয় মুতাসিমকে।
এক পর্যায় কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, একদিকে স্ত্রী প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী, এক বোন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী,তার ওপর ছেলের ক্যানসার। এদের চিকিৎসায় সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব। ছেলে দেশে ফিরলে কর্মস্থলে শিক্ষক সমিতির ফান্ড থেকে লোন নিয়ে ছেলে মুতাসিম প্রথমে যশোর দড়াটানা হাসপাতালে ডাঃ শরিফুল ইসলাম রঞ্জু তার অন্ডকোষে অপারেশন করালে পরীক্ষায় ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তাকে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ এসএম নাজমুল হাসানের কাছে চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি মুতাসিনের শরীরে পরপর ৬টি কেমোথেরাপী দেন। এদিকে কেমেথেরাপী দেয়ার দুই মাস পর থেকে সে ডান পাশের হিপ জয়েন্টে ব্যাথার কারনে চলাচল করতে পারে না। তাকে এবার নেয়া হয় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন প্রফেসর ডাঃ রফিকুল ইসলামের কাছে। পরীক্ষার পর তিনি জানান, মুতাসিমের ডান হিপ জয়েন্ট শুকিয়ে ড্যামেজ হয়ে গেছে। এটা দ্রুত অপারেশন করতে হবে। একদিকে ক্যানসার অন্যদিকে হিপ জয়েন্ট অপারেশন সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। তাই সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের দানশীল ও বিত্তবানদের কাছে আসহায় পিতা আব্দুস সালাম সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন। সাহায্য পাঠাতে বিকাশ নং-০১৯০৮১০২৪৪৩ অথবা মোঃ আব্দুস সালাম, সঞ্চয়ী হিসাব নং-২৩২১৮০১০২৭০১৯, সোনালী ব্যাংক, মণিরামপুর শাখা।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ