ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে – বালিরটেক কালিগঙ্গা নদীতে সেতু নির্মানে ধীরগতি ২টি উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে

editor ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ঘিওর(মানিকগঞ্জ):২৮ অক্টোবর-২০১৯,সোমবার।
মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার বালিরটেক কালিগঙ্গা নদীর উপরে সেতু নির্মানে ধীরগতির কারনে হরিরামপুর-উপজেলা সদরের সাথে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম অসুবিধা হচ্ছে। সেতুটির রেলিং এবং উভয় পাশের পায় ২ কিঃমিঃ রাস্তা কার্পেটির না করার সকল প্রকার যানবাহনসহ হরিরামপুর এবং সিংগাইর এ ২টি উপজেলার হাজার হাজার লোকজনকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক দুঃখ কষ্ট করে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার উপর দিয়ে যানবাহন এবং লোকজনকে একটি মাত্র ফেরি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সদর এলজিইডি অফিস সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ সদর বালিরটেক কালিগঙ্গা নদীর উপরে ২৯১ মিটার দীর্ঘ পি.সি গার্ডার সেতু এবং ১৬৫ মিটার দীর্ঘ ভায় ডাষ্ট নির্মানের জন্য নাভানা কন্সস্ট্রাকশন লিঃ ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮১ টাকা ব্যয়ে এই সেতুটির নির্মান কাজ পায়। নির্মান কাজটি ১-১০- ২০১৬ থেকে ৩১- ৩-১৮মেয়াদ শেষ হবার কথা। কিন্তু নিদিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পরেও নির্মান কাজ শেষ না হবার কারনে এলাকার লোকজনকে অধিক ভাড়া ব্যয় করে ফেরিতে যানবাহনসহ সকল প্রকার মালামাল আনা নেওয়া করতে হচ্ছে। হরিরামপুরের ১৩টি ইউনিয়নের লোকজনকে বালিরটেক কালিগঙ্গা নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিংগাইর এবং মানিকগঞ্জ সদরে আসতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ সমস্ত এলাকার জনগনের নৌকা একমাত্র ভরসা। বড় ইঞ্চিনচালিত নৌকায় করে এই কালিগঙ্গা নদী পারি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। মানিকগঞ্জ সদর থেকে ২০/২২ কিঃ মিঃ দুরে বালিরটেক বাজার। সবুজ ছায়া ঘেরা এ নদীর কোল ঘেষে অসংখ্য বাড়ি, ঘড়, স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠি অধিষ্ঠিত এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসাস্থল নৌকা। এই রাস্তা সিংগাইর এবং হরিরামপুর উপজেলার হাজার হাজার লোকজনকে সরাসরি যাতায়াত করতে পারেনা। এমনকি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, মোটরসাইকেল, অটোরিকসা, অটোবাইক,ভ্যানবাইক,ভ্যান গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারেনা। ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী নৌপথে আনা নেওয়ার কারনে অধিকভাড়া ব্যয় করতে হচ্ছে। সেতুটির দুপাশের প্রায় ২কিঃ মিঃ রাস্তাটি কাপেটিং না করায় সেতুটি চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। হরিরামপুর উপজেলার বলড়া গ্রামের সাইজুদ্দিন , মোতালেব, আন্নেছ, সুলতানপুর গ্রামের মান্নান, আবু,শাহিনসহ অনেকে জানান, জরুরি ভিত্তিত্বে আমাদের এখানের সেতুটি খোলে দেয়া দরকার। তাহলে আমরা হরিরামপুর থেকে মানিকগঞ্জ এবং সিংগাইর উপজেলা সদরে জরুরি যোগাযোগ করতে পারি। তবে সেতুটি নির্মান করায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের উপকার হবে।
নাভানা কন্সস্ট্রাকশন লিঃ জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, কালিগঙ্গা নদীর উপরের সেতুটির কাজ আগামী এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে উভয় পাশের রাস্তার কাপেটিংয়ের কাজও শুরু হয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, রিভাইজেশনে একটু সমস্যা থাকায় নির্মান কাজ একটু দেরি হয়েছে। তবে সেতুর উভয় পাশেই দ্রুত কাপেটিং শুরু হয়ে গেছে । আশা করছি দ্রুত কাজটি শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ