ব্রেকিং নিউজ

মণিরামপুর হাসপাতাল বেহাল দশায়, চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে ৮ চিকিৎসকের স্থলে আছে মাত্র ৫ জন

editor ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবু বক্কার সিদ্দীক, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:০২ নভেম্বর-২০১৯,শনিবার।
চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে যশোরের মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৮ বছর আগে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ৩১ শয্যার জনবলও নেই হাসপাতালে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, এ্যানেসথেসিষ্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিও গ্রাফার), প্যাথলজিষ্ট, সহকারি সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য রয়েছে। স্যাকমো (উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা। ৩৮ চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক থাকায় হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। এছাড়া হাসপাতালের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির জনবলের অবস্থা আরো নাজুক। অতি দ্রুত কাংিখত চিকিৎসকসহ জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী জনতা।
এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও কোন এমটি (মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট) না থাকায় সম্প্রতি যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত এমটি মেডিকেল আনিসুর রহমান সপ্তাহে ৩ দিন এবং পাশ্ববর্তী ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এ্যানেসথেসিষ্ট ডাঃ সুচিন্ত দত্ত সপ্তাহে ২ দিন আসেন বিধায় রোগীর অপারেশন হয়।
জানাযায়, প্রায় ৫ লাখ জন অধ্যুষিত দেশের বৃহত্তম এ উপজেলায় ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৫ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। ২০১১ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আজও আগের জনবল কাঠামোয় চলছে। কিন্তু ৫০ শয্যার জনবল তো দূরের কথা ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর সিংহভাগ পদই রয়েছে শুন্য।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর বিধি অনুযায়ী চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে ২১ জন কিন্তু এর বিপরীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে মাত্র ৫ জন। ১ জন মিডওয়াইফ (ধাত্রী)সহ ২২ নার্সের বিপরীতে ১৯ জন থাকলেও করুণ অবস্থা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে। ১০৫ জন তৃতীয় শ্রেণির বিপরীতে ৫৫ জন এবং ২২ চতুর্থ শ্রেণির বিপরীতে ১০ জন রয়েছে।
অপরদিকে ৫০ শয্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ৩৮ জন, ২য় শ্রেনি ২২, ৩য় শ্রেণি ১৭৭ এবং ৪র্থ শ্রেণিতে ২৪ জন থাকার কথা রয়েছে।
হাসপাতালে আরেক জনগুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও কোন লোক নেই। সম্প্রতি যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট আনিসুর রহমান সপ্তাহে ৩ দিন আসেন।
পাশ্ববর্তী ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এ্যানেসথেসিষ্ট ডাঃ সুচিন্ত দত্ত সপ্তাহে ২ দিন আসেন বিধায় রোগীর অপারেশন হয়। এদিকে একটু জটিল রোগী হাসপাতালে আসলেই তাদেরকে যশোর ২শ’৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় বলে ভূক্তভোগী কামরুল, আমিনুরসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন।
সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান একেবারেই নাজুক অবস্থায় পৌছেছে। সংকট উত্তরণে অতি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রারানী দেবনাথ চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, ৩৯-তম বিসিএস ক্যাডারে (স্বাস্থ্য) নিয়োগকৃতদের পদায়ন হলে সংসকট দূর হবে।
জেলা সিভির সার্জন ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ৫০ শয্যায় উর্ণীত অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল পূরণ হয়েছে। মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির শর্ত পূরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ