বাংলাদেশী পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে এসে ধরারোহিঙ্গা নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

editor ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ ১৪ নভেম্বর -২০১৯,বৃহস্পতিবার।

বাংলাদেশী পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে এসে ধরা খাওয়া রোহিঙ্গা নারীসহ চার জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে আটক তিনজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার কোর্টে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। তবে আদালতে এবিষয়ে বৃহস্পতিবার শুনানী হয়নি। আগামী রোববার এবিষয়ে শুনানী হবে।
মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী আসমা, তার কথিত স্বামী জেলা মুক্তিযোদ্ধালীগের সভাপতি রেজাউল করিম, আইনজীবী মোঃ মনোয়ার হোসেন এবং সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান মতি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) রকিবুজ্জামান , বুধবার রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সুপারিনটেন্ড মোঃ মনিরুজ্জামান । এর আগে গত বুধবার মতিউর রহমান ছাড়া বাকি তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাদেরকেও আসামী করা হবে।
উল্লেখ্য যে গত বুধাবর বাংলাদেশী পরিচয়ে জান্নাত আক্তার মানিকগঞ্জ পাসপোর্ট করতে আসলে অসলগ্ন কথা বার্তায় সন্দেহ হয় মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমানের। তিনি শরনার্থী নিবন্ধিত সার্ভারে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন জান্নাত আক্তার আসলে রোহিঙ্গা নারী। তার আসল নাম আসমা। পরে পুলিশকে খবর দেয়ার পর আটক করা হয় আসমা, তার কথিত স্বামী রেজাউল করিম, তাদের আইনজীবী মোঃ মনোয়ার হোসেনকে। আর জন্ম নিবন্ধণ সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় চেয়ারম্যান মতিউর রহমানকে। তবে তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।
মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমান জানান, বুধবার বেলা বারোটার দিকে সাটুরিয়ার উপজেলার বেংরোয়া গ্রামের রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে এক নারীর জন্য পাসপোর্ট করতে আসেন। ওই নারী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের বেংরোয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে জান্নাত আক্তার। জন্ম ১০ই জুন ২০০০ সালের দেখিয়ে একটি জন্মসনদ দেখিয়ে পাসপোর্ট ফরম দাখিল করেন। জন্ম সনদ দেওয়া হয়েছে ৬ নভেম্বর ২০১৯ যার নম্বর ২০০০৫৬১৭০৪৭১০৫২১১। ওই পাসপোর্ট আবেদন পত্রে সনাক্তকারী হিসেবে আইনজীবী মনোয়ার হোসাইনের স্বাক্ষর রয়েছে। পাসপোর্ট করতে আসা ওই নারীর কথাবার্তা সন্দেহ হলে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে রোহিঙ্গা সরনার্থীদের নিবন্ধিত সার্ভার ঘেটে দেখেন। তিনি প্রকৃত পক্ষে রোহিঙ্গা নারী। তার নাম আসমা। বাবা সিরাজুল হক। রোহিঙ্গা নিবন্ধিত নম্বর ১৪৩২০১৭১২১৩১৫৪৪১৫। তার জন্ম তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০১। আসমা ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর চট্রগ্রামের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং এদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।

সম্প্রতি সংবাদ