ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে হাজারো কর্মস্থলমুখী গার্মেন্টস কর্মীরা

editor ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ০১ মে-  ২০২০,শুক্রবার্

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া  নৌ-রুটে ফেরিতে গাদাগাদি করে আসা কিংবা ঘাটে  নেমে যানবাহনে উঠার সময়  করোনাভাইরাস ও সামাজিক দুরত্বের কথা ভূলে গেছে  ঢাকামুখী যাত্রীরা ।

বৈরি আবহাওয়া আর মরণঘাতী করোনাভাইরাসের ঝুঁকিসহ নানান ঝক্কি ঝামেলা মাথায় নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে ফিরছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও মানুষের উপচে পড়া ভিড় ২১ জেলার মিলনস্থল পাটুরিয়া ফেরিঘাট।

শুক্রবার (০১ মে) সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত কিলোমিটার পার হয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন এসব মানুষ। ঘাটে আসা অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের একই কথা “বউ-বাচ্চা আর পেটের তাগিদে মহামারি করোনাভাইরাসের ভয় মেনে নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থেকে ঢাকাগামী যুবক আশরাফুল আলম বলেন, সীমাহীন কষ্ট করে সেই কাক ডাকা ভোরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। একটি মাহিন্দ্রায় ( ডিজেল চালিত থ্রি হুইলার) করে তিনিসহ আরও ৫ জন এসেছেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। যাবেন কর্মস্থল নরসিংদীতে। কোনো উপায় নেই তার। গার্মেন্টেসের ডিজিএম তার মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন “শনিবারের মধ্যে অফিসের যোগদান না করলে কর্তুপক্ষ তোমাকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন”। বলুন এরপরও কি ঘরে বসে থাকা যায়? সংসার চালাতে চাকরি রক্ষার্থে করোনাভাইরাসের ভয় আর প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক একটি ফেরি ঘাটে ভেড়ার সাথে হুমরি খেয়ে বানের স্রোতের মতো নামছেন শত শত মানুষ। ফেরিতে গাদাগাদি করে আসা কিংবা ঘাটে নামার সময় প্রতিযোগীতায় মাধ্যমে যানবাহনে উঠার চিন্তায় তারা ভুলেই গেছেন করোনাভাইরাস আর সামাজিক দুরত্বের কথা।

এসব মানুষের চোখে মুখে একটাই শংকা, শত মাইল পথ শতঝক্কি ঝামেলা আর হাজার টাকা খরচ করে আসলাম, এখন যানবাহন পাবো তো! তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবার কয়েকটি গণপরিবহনের আনাগোনা দেখা গেছে।

ঘাটে কথা হয় সানজিদা খানম নামের এক নারী কর্মজীবীর সাথে। তিনি বলেন, ভাই করোনা টরোনার টেনশন নাই। আগে চাকরি বাঁচাতে হইবো।” তার মুঠোফোনে মেসেজ এসেছে “যেকোনো মূল্যে শনিবার সকালের শিফটে কাজে যোগ দিতে হবে।” নইলে কর্তৃপক্ষ তার জায়গায় অন্য লোক নিয়োগ দেবে।

বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ফেরি সেক্টরে ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানালেন, ২টি রো-রোসহ (বড় সাইজের ফেরি) ৪টি ফেরি পাটুরিয়া দৌলতদিয়া রুটে চলাচল করছে। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হলেও গার্মেন্টস খোলা থাকায় হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ফেরি যোগে পার হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন।

এদিকে গণপরিবহন না থাকায় ঘাটে আসা কর্মস্থলমুখী মানুষেরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়ছেন যানবাহন মালিক-চালকদের কাছে। যেখানে পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ থেকে ৯০ টাকা, সেখানে কমপক্ষে ২০০ টাকা নিচ্ছে কিছু কিছু যানবাহন। অন্যদিকে, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি চেপে জন প্রতি ৫শত টাকা গুনতে হচ্ছে। মোটর সাইকেলে দুই জনকে এক হাজার টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলজার বলেন, দৌলতদিয়া থেকে ফেরি পার হয়ে হাজারো মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে ভিড় জমাচ্ছে। রীতিমতো একটি অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়া এসব কর্মজীবী মানুষের মুখে দিকে তাকানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সকালের দিকে বৃষ্টি থাকায় লুকিয়ে লুকিয়ে কয়েকটি গণপরিবহন চললেও তাদের নজরদারি বাড়ানোর কারণে তা এখন বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ