ব্রেকিং নিউজ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটেচাকুরী বাঁচাতে করোনার ঝঁকি নিয়ে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

editor ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন ,গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :০৫ মে-২০২০,মঙ্গলবার।
নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউন চললেও শিল্প কল-কারখানা খোলার কারনে বিভিন্ন অফিস ঢাকাসহ তার আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস কারখানা খোলা থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথে শ্রমজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। চাকুরি বাঁচাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে শ্রমজীবী এই মানুষেরা। তবে গন-পরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন পাল্টে কর্মস্থলে ছুটছেন তারা।

ইকবাল মাহুমুদ বলেন, আমি কুষ্টিয়া থেকে এসেছি সকাল এগারোটা মধ্যে ডাকায় গিয়ে অফিসে ডুকতে হবে তা না হলে আমার চাকরী থাকবে না । আর চাকরী না থাকলে খাব কি? তাই করোনা ঝঁকি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি ।

মাগুরা থেকে আগত রোকসানা রোজি বলেন ,ভোরে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওয়ানা করেছি । ঘাট পযর্ন্ত আসতে অটো রিক্সকরে সাতশত টাকা দিয়ে এ পযর্ন্ত আসলাম, আল্লাহ জানেন ঢাকা পৌঁছাতে কত টাকা লাগবে, তিনি আরো জানান যে, ঢাকা কেরানী গজ্ঞে একটি ডর্কইয়াডে পাকশালার কাজ করেন। গরীব মানুষ স্বামী ছাড়া দুই সন্তান সহ পেটের দায়ে কাজ করার জন্য ঢাকায় যাচ্ছি ।

ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সারা দেশে লকডাউন চলছে। এতে করে এ্যাম্বুলেন্স ও পন্যবাহি ট্রাকসহ জরুরী যানবাহন পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথে সীমিত আকারে ৫টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু ফেরি সচল থাকায় বিভিন্ন জরুরী পণ্যবাহি যানবাহনের সাথে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গাদাগাদি করে নদী পারাপার হচ্ছে। এতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরোও বেড়ে যাচ্ছে। গত ২৬ এপ্রিল বিআইডব্লিউটিসি’র পাঁচ কর্মকর্তার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সংস্থাটিতে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, সরকারী আদেশে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্স ও পন্যবাহি ট্রাকসহ জরুরী যানবাহন পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন যাবৎ যাএীর চাপে ঘাটে আমরা ঠিকমত পন্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভীড়। এরা সকলেই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অন্যান্য ছোট-খাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে এদের এভাবে পারাপার ঠেকানো আসলে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি সংবাদ