সৈয়দপুরে ৫ মাসের শিশুসহ মা করোনায়আক্রান্ত ॥ নিজ বাসায় করা হলো আইসোলেশন

editor ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি :১১ মে-২০২০,সোমবার।

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের নতুন বাবুপাড়া শহীদ বদিউজ্জামান রোডস্থ একটি বাসায় ৫ মাসের শিশু ও তার মায়ের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ছোট শিশুর কথা চিন্তা করে তাদের নিজ বাসাতেই আইসোলেশন করা হয়েছে। ১০ মে রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯ টার সময় সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন এই ব্যবস্থা করেন। এর আগে গত ৫ মে ওই শিশুর বাবা ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার নৈশপ্রহরী বাহাদুর সরদারের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর থেকে ওই বাসাসহ আশপাশের ১৩ টি বাড়ি লকডাউন রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাংকটির ৯ কর্মকর্তা ও দুইজনের পরিবারের ৫জনসহ মোট ১৪ জনের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
ছোট শিশুর কথা চিন্তা করে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে হাসপাতালের যাবতীয় চিকিতসা বাসাতেই যেনো হয় সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাসিম আহমেদ। মা ও সন্তানকে বাসার একটি রুমেই চিকিৎসা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের শাখা ব্যবস্থাপকসহ আরও মোট নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপে নমুনা পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে সৈয়দপুর শহরে বসবাসকারী দু’জনকে গত ৫ মে রাতে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরের শহীদ ডাঃ বদিউজ্জামান সড়কের বসবাসকারী বাড়িসহ ৮টি বাড়িতে থাকা ১৩ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকারের উপস্থিতিতে ওই বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু মোঃ আলেমুল বাশার, পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ এরশাদ হোসেন পাপ্পু, মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আরমান হোসেন রনি, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মোঃ আবু তাহের সিদ্দিকী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) বরকতউল্লাহ্ উপস্থিত ছিলেন। করোনা আক্রান্ত অপর কর্মচারী ব্যাংকের শাখায় থাকতেন।
গত ২৮ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সৈয়দপুর শাখাটি লকডাউন করা হলে ব্যাংকটির শাখার ব্যবস্থাপক তার বগুড়ার সেউজগাড়ি এলাকার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে করোনার নমুনা দেন। গত ৫ মে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি বগুড়া সেউজগাড়ীতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
এর আগে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সৈয়দপুর শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রথম দফায় দুই জনের নমুনা পরীক্ষায় এবং দ্বিতীয় দফায় চার জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। বর্তমানে ব্যাংকটির করোনা আক্রান্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের চারজন সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে, একজন নীলফামারীতে, একজন দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এবং দু’জন রংপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন। করোনায় আক্রান্ত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুলের পরিবারের ৩ জনের করোনায় পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বড় বৃত্তিপাড়ায় বসবাসরত ওই পরিবারের করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার জনে।
গত ৪ মে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার ওই ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারের ৮ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। এতে পরের দিন রাতে ব্যাংক কর্মকর্তার বাবা, ভাই ও ভ্রাতৃবধুর দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর পর পরেই আক্রান্তের পরিবারসহ আশপাশের ১০ বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করে পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন। (ছবি আছে)

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

সম্প্রতি সংবাদ