ব্রেকিং নিউজ

কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার…….আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি

editor ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ১৬ মে-২০২০,শনিবার।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন সহ তাদেরকে স্বাবলম্বী করতে নিরলস ভাবে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। তাই এই করোনা মহামারির সময়েও উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে কৃষকদের নানাবিধ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। করোনা কালীন সময়েও যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য বিক্রয় ও পরিবহনে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়েও সরকারের তীক্ষè দৃষ্টি রয়েছে। তিনি আজ (১৬ মে) টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিরাপদ সবজী গ্রাম উদ্বোধন, উপকরন ও বীজ বিতরণ করতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, তিনি আরও বলেন, বোরো ধান কাটতে যেন কৃষকদের শ্রমিক সংকটে ভূগতে না হয় সেজন্য সরকার ভর্তূকিতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়েছেন। তাই আপনারা শংকিত না হয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনে মন দেন সরকার আপনাদের পাশে আছে।
এ সময় নাগরপুর উপজেলার বঙ্গবকুটিয়া গ্রামকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে রুপ দিতে কৃষি উপকরন বিতরণ করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহারের নিমিত্তে বসত বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের জন্য সাংসদের নিজস্ব অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ বিতরণ করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো.হুমায়ুন কবীর, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আলম চাঁদ প্রমূখ।
বঙ্গবকুটিয়ার কৃষক ইব্রাহিম বলেন, ‘আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। কীটনাশক স্প্রে করতাম। বিভিন্ন জাতের শাকসবজি আবাদ করেছি। তবে আমরা জানাতাম না, এ সব ফসল বিষাক্ত এবং এসব খেয়ে মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতেন। আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর মানুষকে বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি আবাদে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিল বলেন, ‘নিরাপদ কৃষি গ্রাম হচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রকৃতপক্ষে কৃষিকে বিষমুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। এতে কৃষকের সাড়া মিলছে প্রচুর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি গ্রামকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করাসহ একটি গ্রামকে নিরাপদ ফল গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে বঙ্গবকুটিয়া একটি গ্রাম এবং বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক গ্রুপ, উঠান বৈঠকসহ হাতে-কলমে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। তাই কৃষকদের মাঝে কৃষি বিভাগের পক্ষে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন পদ্ধতি কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে।