ব্রেকিং নিউজ

করোনা সংক্রমণ রোধে প্রস্তুতি: ঈদের আগে-পরে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর হবে

editor ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:১৮ মে ২০২০,

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, শহর থেকে অসংখ্য মানুষের গ্রামে ছুটে যাওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব পালন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, শহর থেকে অসংখ্য মানুষের গ্রামে ছুটে যাওয়া এবং সামাজিক দূরত্ব পালন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় ঈদের আগে ও পরে অন্তত সাত দিন মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রুদ্রমূর্তিতে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ সম্ভাব্য সব চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যাতে অন্যত্র যেতে না পারে, সেজন্য থাকবে বাড়তি নজরদারি, বাড়বে টহল। শহরের প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি করবে র‌্যাব।

১৫ শর্তে চলমান সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ১৪ মে সপ্তম দফায় বাড়ানো এ ছুটির আদেশে বলা হয়েছে- সাধারণ ছুটি ও নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এ সময়ে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে।

মহাসড়কে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (মালবাহী) ছাড়া অন্যান্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে আসন্ন ঈদের নামাজের বড় জামাত পরিহার করতে হবে। মানতে হবে স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যবিধি।

তবে রাজধানীসহ সারা দেশে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও নানা কৌশলে ঢাকায় প্রবেশ ও বাহির হচ্ছেন অনেকেই। শপিংমলগুলোয়ও বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির। এতে বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী যুগান্তরকে বলেন, যত ‘মুভমেন্ট’ হবে, ততই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।

তাই ঢাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী ঈদে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মানুষ কিন্তু ঠিকই ঢাকায় আসছে, বেরও হচ্ছে। ফলে আশঙ্কা করছি, আগামী ঈদকে কেন্দ্র করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সেটি করতে না পারলে বড় বিপদ হতে পারে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের চেষ্টাই থাকবে। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে, সেগুলো হল- জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ স্থান ত্যাগ করতে না পারে, সামাজিক দূরত্ব বজায়ের নির্দেশনা যাতে পালন করা হয়, অপ্রয়োজনে কেউ বাইরে ঘোরাঘুরি না করে এবং সর্বোপরি সীমিতভাবে ঈদ পালন করা হয়।

তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে সংক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ সর্বতোভাবে চেষ্টা করবে। ‘প্যাট্রোল’ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় ব্যক্তিদের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। যেহেতু সাধারণ মানুষ তাদের কথা শোনে। ইতোমধ্যে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম যুগান্তরকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার ঘোষিত সব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে থাকব আমরা। এই সময়ে বিনা প্রয়োজনে কোনো ‘মুভমেন্ট’ করতে দেয়া হবে না।

শহরের প্রবেশপথে থাকবে আমাদের কঠোর নজরদারি। বাড়ানো হবে টহল। আশা করছি, এই সময়টাতে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা রোধ করা সম্ভব হবে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে র‌্যাবের পক্ষ থেকে দু-একদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসবে বলেও জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার এই পরিচালক।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে মহামারী করোনা ভাইরাস রোধে রোববার থেকে ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। চেকপোস্ট ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, যাতে কোনো ব্যক্তি একান্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঢাকা শহরে প্রবেশ বা ঢাকা শহর থেকে বের হতে না পারেন সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত। যথোপযুক্ত কারণ ব্যতীত কোনো যানবাহন চলাচল করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সবাইকে নিজ বাড়িতে অবস্থান (লকডাউন) করতে বলা হয়।

এরপর সেই ছুটির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়। তবে এর মধ্যে কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর পাশাপাশি বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে পোশাক কারখানা চালু হয়।

এখন মসজিদে জামাতে নামাজও পড়া যাচ্ছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত হয়ে গেছে।

সম্প্রতি সংবাদ