ব্রেকিং নিউজ

ফরিদপুরে প্রস্তুত ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র, বন্ধ করা হয়েছে নৌ চলাচল

editor ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

কামরুল হাসান জুয়েল, ফরিদপুর থেকে:২৩ মে-২০২০,শনিবার।

আমফানের প্রস্তুতি হিসেবে পদ্মাবেষ্টিত ফরিদপুরের সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর এই তিন উপজেলায় খোলা হয়েছে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে ও প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের বলা হয়েছে, এই আবহাওয়ায় নদীতে মাছ ধরার জন্য না নামতে। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরণের নৌ চলাচল। পাশাপাশি কৃষি ফসল যাতে বিনষ্ট না হয় সেই আশঙ্কায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ইনর্চাজ সুরজুল আমিন জানান, আমফানের প্রভাবে মঙ্গলবার মেঘলা আকাশের সাথে দুপুরে ও রাতে বৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে সামান্য রোদের দেখা মিললেও পরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে। ফরিদপুরের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজা বলেন, আমফান ঝড়ের কারণে নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নে চারটি ফ্লাড সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের সেখানে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, এছাড়াও সব প্রাইমারী স্কুলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়। আপদকালীন সময়ের জন্য শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি ও গুড় মজুদ করা হয়েছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, ট্রলার ও নৌকাসহ সব ধরণের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনগণকে সতর্ক করার জন্য মসজিদের মাইক ছাড়াও হাত মাইক দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। কোনোক্রমেই যাতে মাছ ধরার জন্য কেউ নৌকা নিয়ে নদীতে না নামে সেজন্য বলা হচ্ছে। ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ফরিদপুরের এ মৌসুমে ২৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে যার ৫০ ভাগই এখনো কাটা হয়নি। এসব পাঁকা ধান বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাড়ে ছয় শ’ একর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এসব কলা ও লিচু গাছে শক্ত বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। ঝড়ে পাটের তেমন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আমফান ঝড়ের কারণে উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জেলায় সব মিলিয়ে ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে, শুকনো খাবার তৈরি করে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা মানুষকে সরবরাহ করতে।

সম্প্রতি সংবাদ