ব্রেকিং নিউজ

বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে চরম দূর্ভোগে সৈয়দপুরবাসি

editor ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:২৭ মে-২০২০,বুধবার।

বৈশ্বিক মরনব্যাধী করোনা ভাইরাস এর মহাদুর্যোগ এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুতের মহামারী সংকট। পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদের দিনেও বিদ্যুতের ভেলকিবাজি খেলায় ঊৎসব আনন্দটুকুও জোটেনি সৈয়দপুরের গ্রাহকদের ভাগ্যে।
জানা গেছে, নর্দাণ ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এর অধীনে ১১ কেভি ১০ টি ফিডারের মাধ্যমে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সৈয়দপুর পৌর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তি নীলফামারী সদর, দিনাজপুরের পার্বতিপুর, চিরিরবন্দর, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বিস্তির্ণ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এর অধীনে রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার বিভিন্ন শ্রেনীর বিদ্যুৎ গ্রাহক। ফিডারগুলির মধ্যে ১১ কেভি টাউন-২, এক্সপ্রেস ও দারোয়ানী ফিডারের দুরত্ব অনেক বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ সমস্ত গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে গাছ ও বাঁশঝাড়ের ভিতর দিয়ে গাছ ও বাঁশের খুঁটির ওপর নিম্ন মানের তার দিয়ে লাইন টানা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ কেভি টাউন-২, দাড়োয়ানী ও এক্সপ্রেস এই ৩ ফিডারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে এ ফিডারগুলির এলাকায় দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। সামান্য বাতাসে বিদ্যুতবিহীন হয়ে যায় পুরো এলাকা। এতে মিল কল-কারখানার উৎপাদন বন্ধসহ থেমে যায় জীবনযাত্রা। এলাকাজুড়ে বিরাজ করে ভুতুরে পরিবেশ।
ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়ে নেসকো এর গোলাহাট ও নিয়ামতপুর উপকেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত সুইচ বোর্ড এটেনডেন্টগণ (এসবিএ) জানান, লাইন ফল্ট হয়েছে। কখন বিদ্যুৎ সচল হবে নিশ্চিত সময় দিতে পারেন না তারা। এছাড়া দৈনিক বিভিন্ন কাজের জন্য ৫ থেকে ৭ বার লাইন শাট ডাউন গ্রহন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। এতে ঘন-ঘন বিদ্যুৎ বিচ্যুতির ফলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে এ জনপদে।
সুত্রমতে, সৈয়দপুর নেসকোর আওতায় উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিসিক শিল্পনগরী, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, সেনানিবাস, আর্মি ইউনিভার্সিটি, মৎস্য গবেষনা কেন্দ্র, উত্তরা ষ্টিল মিল, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল, গ্লোরি সিরামিক্স, পেপার মিল, জুটমিল, ময়দা মিল, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল, ফাইলেরিয়া হাসপাতাল, আহমেদ প্লাউড কারখানা, শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক-বাণিজ্যিক মিলে প্রায় ৫৫ হাজার গ্রাহক। বিদ্যুতের এই ভেল্কিবাজি খেলায় বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের চরম বির্পযয় নেমে এসেছে।
সৈয়দপুর আর্মি ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী নুসরাত জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ইউনিভার্সিটিসহ অন্যন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে তাও আমরা করতে পারছিনা। সামনে পরীক্ষা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
বিদ্যুতের এই দুরাবস্থা নিয়ে শহরের মিস্ত্রিপাড়ার রবিউল ইসলাম রবিসহ অনেক ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ ক্ষোভের সাথে বলেন, আগে পিডিবি’র সেবার মান অনেক ভাল ছিল। আমরা সার্বক্ষনিক বিদ্যৃৎ পাইতাম। নেসকো হওয়াতে বিদ্যুতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পবিত্র রমজান মাসেও ইফতার, তারাবী ও সেহেরী অন্ধকারে করতে হয়েছে। এমন কি পবিত্র ঈদের দিনেও সারাদিন বিদ্যুৎ মিলেনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ আরিফুল হক সোহেল বলেন, ঘন-ঘন বিদ্যুৎ বিচ্যুতি ও বিদ্যুতের এই দুরাবস্থার কারণে হাসপাতালে পানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের চিকিৎসা সেবায় চরম সমস্যা হচ্ছে। নেসকো কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালে জরুরী সেবায় পৃথক বিদ্যুতের ব্যবস্থার জন্য পত্র দ্বারা অবহিত করলেও এর কাঙ্খিত ব্যবস্থা করা হয়নি।
বিদ্যুতের এহেন অচলাবস্থা নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন, বিদ্যুতের অভাবে এ জনপদের মসজিদগুলোতে পানি না থাকায় মুসল্লীদের বাথরুম, ওজু, ইবাদত-বন্দেগী বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। সৈয়দপুরে বিদ্যুতের এ অচলাবস্থায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যুতের এই ভেল্কিবাজি খেলার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী, উত্তর অঞ্চল রংপুর (নেসকো) মোঃ রেজাউল করিম এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। বাঁশ ও গাছের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয় এড়িয়ে তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে এ অবস্থা। তবে কবে না নাগাদ এ দুর্ভোগ কাটবে তা তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
বিদ্যুতের এ অচলাবস্থা দির্ঘ দিন চলতে থাকলে চিকিৎসাবিহীন করোনার ভাইরাসের প্রকোপে ঘরে নিরুপায় হয়ে কর্মহীন মানবেতর জীবন কাটাবে এ জনপদের মানুষজন। তাই দ্রুত সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, উৎপাদক, শিল্পপতিসহ সকল শ্রেনী পেশাজীবিরা দাবি জানান।

সম্প্রতি সংবাদ