ব্রেকিং নিউজ

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে উল্টো তিরস্কার পেয়েছি: ফখরুল

editor ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking slider-top প্রধান খবর

কালের কাগজ ডেস্ক:৩০ মে ২০২০, শনিবার।

শনিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজার জিয়ারত করেন নেতাকর্মীরা। ছবি-যুগান্তর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারকে তারা অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু উল্টো তারা তিরস্কৃত হয়েছেন।

শনিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে আমরা বিগত দিনে অনেক পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি, উল্টো তিরস্কার পেয়েছি। মহামারীতে আমারা যে প্যাকেজ প্রস্তাব দিয়েছিলাম সেটা ছিল সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তারা সেটা আমলে নেয়নি।

করোনাভাইরাসের বিস্তারের ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে সবকিছু খুলে দিয়ে সরকার দেশকে চরম বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে সাধারণ ছুটিও থাকবে না, গণপরিবহন খুলে দেয়া হবে- এই বিষয়গুলো সরকার প্রথম থেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনে হয়েছে যে, সমন্বয় নেই কোথাও। তাদের (সরকার) সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণভাবে অপরিপক্কই নয়, অদূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবিহীন। কোনো রকম চিন্তা ছাড়া একেবারে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হচ্ছে।

বিএনপির তরফ থেকে জনগণের প্রতি পরামর্শ কী- প্রশ্ন করা হলে মহাসচিব বলেন, জনসাধারণের প্রতি আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, আপনারা নিজেরা নিরাপদ থাকুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং ঘরে থাকুন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনে স্বাধীনতার শত্রু, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্র শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। দেশের এই বিশেষ সংকটময় মুহূর্তে আমাদের নেতার কথা বার বার মনে হয়। আজকে এই ক্ষণজন্মা নেতা যদি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে পারতেন তাহলে এদেশের মানুষকে আর এতো কষ্ট পেতে হতো না। আজকে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র নেই, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, মানবিক অধিকার প্রতিমুহূর্তে লঙ্ঘিত হচ্ছে, দেশে এক দলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছে। এই সরকারের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই এবং জনগণের কল্যাণে তারা কখনও কোনো কাজ করে না।

তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যে পরিমাণ পরীক্ষা হচ্ছে এতে দেখা গেছে, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মৃত্যুর পরিমাণ বাড়ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনকি তাদের যে নির্বাচিত টেকনিক্যাল কমিটি আছে তারাও পরামর্শ দিয়েছেন, একসঙ্গে সব কিছু খোলা উচিত হবে না। সরকার কারো কথা না শুনে সবকিছু খুলে দিয়েছে। ফলে আমরা আরও বড় একটা হুমকির মুখে গোটা জাতি পড়ে গিয়েছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ শপথ করেছি আমরা এই দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়াব, আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ইতিমধ্যে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও জনগণের পাশে দাঁড়াব। একই সঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে এটা হচ্ছে আমাদের আজকের দিনের শপথ।

সরকার গণপরিবহণ চালু করে দিয়েছে এবং এর সঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর কথা আসছে। এটা জনগণের জন্য একটা বাড়তি বোঝা হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার বলে দিয়েছে কোনো রকম ভাড়া বাড়াবে না এবং গাড়ি অর্ধেক ফাঁকা রেখে চলাচল করবে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে সবকিছুই কোনো চিন্তা ছাড়াই করা হচ্ছে। এমনকি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি এটা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।