ব্রেকিং নিউজ

গোয়ালন্দে সকালে থানায় গ্রেফতার, রাতে ওসি কে ফোনে জানিয়ে তরুণের আত্মহত্যা

editor ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ,( রাজবাড়ী):২৬ জুন-২০২০,শুক্রবার।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা সংলগ্ন মৃত অশোক সাহার ছেলে পাপন সাহাকে থানার বাউন্ডারির সঙ্গে ঘেষে ঘর তুলার কারনে পুলিশ ধরে নিয়ে সারাদিন আটকে রাখার পর সন্ধ্যা মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে অভিমানে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীররাতে গোয়লন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ফোনে ঘোষণা দিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের তাড় হাতে জড়িয়ে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৪৫ বছর ধরে গোয়ালন্দ রেল ওয়ে ষ্টেশনের সামনে থানা গেটের সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় বসোবাস করে আসছে পাপনের পরিবার। থানার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ঘরের কাজ করছিলেন পাপন। থানার প্রাচীরের ওপর কাজ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কাজ বন্ধ করতে বলেন। কথা না শোনায় পাপনকে ডেকে থানা হেফাজতে রেখেই ওসি বিশেষ অভিযানে বাইরে যান। সন্ধ্যায় থানায় ফিরে রাত আটটার দিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। রাত পৌনে বারোটার দিকে পাপন ওসিকে ফোন করে নিজের কষ্টের অভিমানের কথা শেয়ার করে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের তাড় হাতে জড়িয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। তরুণ এই ব্যবসায়ীর মুতে্যুতে সাধারন মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।
পাপনের মা পুষ্পরানী সাহা বলেন,৪৫ বছর ধরে এখানে স্মামী ,সন্তান নিয়ে বসোবাস করছি। গতকাল দুপুরে ওসি এসে খবর দিয়ে নিয়ে সারাদিন আটকে রাখার পর রাত আটটায় ছেড়ে দেয়। অনেক রাতে পাপন ওসিকে ফোন করে আত্মহত্যা করার কথা বললে পুলিশ বাড়ি এসে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সহ আমরা দোকানে গিয়ে দেখি সে দোকানে পড়ে আছে।

পাপনের রড় বোন হ্যাপি সাহা বলেন ,ওসি সাহেব ধরে নেওয়ার কারনে লজ্জায়,অভিমানে পাপন আত্নহত্যা করেছে । আমার বাবার ভিটায় থেকেও আজ আমার ভাই কে হারাতে হলো ।
গোয়লন্দ পৌর ছাত্র লীগের সাধারন সম্পাদক আকাশ কুমার সাহা বলেন, থানা থেকে রাত আটটার দিকে পাপনকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনি । এবং পাপন থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় আমি মিস্রি নিয়ে অতিরিক্ত চালের টিন কেটে দেই । রাত পৌনে বারোটার দিকে খবর আসে পাপন ও ,সি সাহেব কে ফোন করে আত্মহত্যা কথা বলেছে । খবর পেয়ে তাড়াতাড়ি ওর দোকানে গিয়ে দেখি পাপন মেঝেতে পড়ে আছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, আইন অমান্য করে থানার সীমানা প্রাচীরের ওপর দেয়াল করায় তাকে দুপুরে ডেকে হাজতে রেখে জরুরী অভিযানে বাইরে যাই। সন্ধ্যায় ফিরে এক ফুট জায়গা রেখে কাজ করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই। রাত ১১.৫৫ মিনিটে ফোনে আত্মহত্যা করার কথা বলে এবং কাল সকালে লাশটা নিয়ে যাবেন বলে জানায়। ফোন না কেটে দ্রুত তার বাড়ি গিয়ে পাপন কোথায় জানতে চাইলে বলে দোকানে। দোকানে গিয়ে দেখি বিদ্যুতের তাড় জড়িয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়ে থানায় পাপনের বোন হ্যাপি রানী সাহা বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে।