ব্রেকিং নিউজ

ঘিওরে ’বিএইচ এফ” পরিচালনায় মৌলিক স্বাক্ষরতার প্রকল্পের ৬ মাস মেয়াদী কার্যক্রম সমাপ্ত

editor ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:ঘিওর (মানিকগঞ্জ):১৪ জুলাই-২০২০,
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যুরো অফ হিউম্যান ফ্রেন্ডশীফ (বি এইচ এফ) এর পরিচালনায় শুষ্ট সুন্দরভাবে মৌলিক স্বাক্ষরতার প্রকল্পের ৬ মাস মেয়াদী কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের নারী এবং পুরুষা শিক্ষার আলো পেয়ে অনেক পরিবার খুশি হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে ৩০০টি শিক্ষন কেন্দ্রের মাধ্যমে দিনে ৩০ জন নারী শিক্ষার্থীরা এবং রাতে ৩০ জন পুরুষ শিক্ষার্থীকে সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন শিক্ষাদান করেন। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ হাজার, নারী শিক্ষক সংখ্যা ৩০০ জন এবং পুরুষ শিক্ষক ৩০০ জন। প্রতি কেন্দ্রে নারী শিক্ষক একজন এবং পুরুষ শিক্ষক একজন পাঠদান করেন। ২ ঘন্টা করে ক্লাস নেওয়া হয়। তবে শিক্ষা কার্যক্রম ঠিকমত চলেছে কিনা এই জন্য দেখ ভাল করার জন্য ১৫ জন সুপার ভাইজার শুষ্টভাবে তদারকি করেন কেন্দ্রগুলো।
মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় ঘিওরে বহু নারী পুরুষ শিক্ষার আলোতে আলোকিত হয়ে হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বই, ফ্লিপ, চট, খাতা, কলম, ব্লাক, বোর্ড,বসার চট, কেন্দ্রের সাইন বোর্ড,সহ প্রযোজনীয় উপরন দেওয়া হয়। নারীদের কেন্দ্রগুলো বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এবং পুরুষদের কেন্দ্র সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চালু থাকে। রাতের কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ৬টি করে হারিক্যান দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখে ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৩০০টি শিক্ষন কেন্দ্রে একযোগে উদ্ধোধন করা হয়। ১৫ থেকে ৪৫ বছরের প্রায় ১৮ হাজার বয়সের নিরক্ষর নারী এবং পুরুষকে সনাক্ত করে বিএইচ এফ বেসরকারী সংস্থাটি মৌলিক সাক্ষরতা কার্যক্রমটি নিবির ভাবে কাজ করে প্রশংসা অর্জন করে। তবে শিক্ষা কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিবীর ভাবে দেখাশুনা করাও হয়। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাগন, উপজেলা চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মতবিনিময় করেন এবং তাদের স্বল্প সময়ের শিক্ষা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পয়লা ইউনিয়নের তেরশ্রী গ্রামের রুনু দাশ, দিপালী দাশ সাথী দাশ, রুবি বেগম, বিথী রানী,শিলা হালদার,সূচনা দাশ,দিপালী দাশ টগর দাশ ,চায়না রানী, সহ অসংখ নারী শিক্ষার্থীরা জানান,বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ নেবার ফলে আমরা শিক্ষন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে আমাদের নাম ঠিকানা লেখাসহ ছোটখাটো হিসাব নিকাশ করতে পারছি। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কর্মরত শিক্ষক জুঁই সাহা ও রানু আক্তার জানান, বর্তমান সরকার এই প্রকল্পের আওতায় এলাকার অনেক নিরক্ষর মানুষের উপকার হয়েছে। আজকে গ্রামের অনেকেই নাম ঠিকানাসহ ছোটখাটো বিষয়গুলো লিখতে পড়তে পারছে।
ব্যুরো অফ হিউম্যান ফ্রেন্ডশীপ (বিএইচ এফ) এর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সৈয়দ মোঃ আব্দুল কাদের টিপু জানান, সরকারের নিয়মনীতি অনুসরন করে যথাসময়ে সঠিকভাবে আমাদের কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় । গত ২৮ মে ২০২০ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সবাই গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। সকল সুপারভাইজার ও শিক্ষকদের নির্ধারিত সম্মানী কয়েক দফায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় শুষ্ট ও সুন্দরভাবে বিতরন করা হয়। এছাড়া বিএইচ এফ এর উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম, বৃক্ষরোপন, এলাকায় অসহায় দুঃস্থদের সাহায্য সহযোগিতা করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। তবে এই প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বিএইচ এফ সংস্থাটি তাদের মৌলিক স্বাক্ষরতা কার্যক্রমটি এলাকায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছে। এলাকার বহু নারী, পুরুষ এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ