ব্রেকিং নিউজ

দৌলতপুরে চরাঞ্চলে বাড়ি ঘরে হাঁটু-কোমড় পানি । বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

editor ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:::১৯ জুলাই ২০২০,মঙ্গলবার।

করোনা দুর্যোগের মধ্যে আকস্মিক বন্যায় মহাবিপদে ফেলেছে মানিকগঞ্জের  দৌলতপুর  উপজেলার চরাঞ্চলের বানবাসি  মানুষদের।  হঠাৎ করেই পদ্মা-যমুনা ফুঁসে ওঠায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে জেলার ৪টি উপজেলা। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সবচেয়ে কষ্টে আছে চরাঞ্চলের মানুষ। বাড়িঘরে হাঁটু ও কোমড় পানি থাকায় পরিবার পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে তারা পড়েছেন দিশেহারা ও চরম  দুর্ভোগের শিকার । চরাঞ্চলের মানুষের রান্না করার লাকড়ি ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বাঁচামারা,চরকাটারী,জিয়নপুর,বাঘুটিয়া এই ৬ টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ বাড়িঘরই তলিয়ে গেছে। সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কারো ঘরের চাল সমান পানি। কারো ঘরে গলা সমান। রাস্তা-ঘাট সব তলিয়ে গেছে। ডুবেছে হাট-বাজারও।

 

 

বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।এদেরই একজন বাঁচামারা গ্রামের উসমান গণি। বাড়িতে পানি ঢুকেছে সপ্তাহ খানেক ধরে। বর্তমানে তার ঘরের ভেতর কোমর  পানি। পরিবার-পরিজন, গরু-ছাগল আর হাঁস-মুরগী নিয়ে   নৌকার ভেতর মালামাল সব তুলে তিনি যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী চরকাটারি এলাকায়।উসমান গণি জানান, ঘরের ভেতর পানি। কোথাও বের হওয়া যায় না। টিউবওয়েল ও টয়লেট তলিয়ে গেছে।  খাবার পানির তীব্র সংকট। রান্না-বান্নাও বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে একটু উচুঁ জায়গায় আশ্রয়ের খোজে ছুটছে।মানিকগঞ্জের বন্যাকবলিত হরিরামপুর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার চরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার চিত্রই এমন। ঘরের ভেতর উঁচু মাচা করে অনেকেই আছেন চরম কষ্টে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করলেও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি বেশির ভাগ এলাকায়।

এদিকে দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, তার ইউনিয়নের ৯০ ভাগ বাড়ি ঘরেই এখন পানি। বন্যার শুরুতেই নদী ভাঙনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মানুষ। করোনার এই সময় বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত তারা। ইউনিয়ন পরিষদের পাশে উঁচু জায়গায় অনেকেই স্থান নিয়েছেন।

এদিকে দৌলতপুর  উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা মোস্তারী জানান,ইতিমধ্যে বণ্যা কবলিত  এলাকায়  জন্য সরকারী ভাবে ২০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ শত প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৩০০ প্যাকেট শুকনা খাবার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।###

সম্প্রতি সংবাদ