ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুুরের ‘ভোজন বিলাস হোটেল’ নিয়ে প্রতারনা।। বিদ্যুৎ অফিসের সিকিউরিটি গার্ড মমিনুলের বিরুদ্ধে মামলা

editor ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নীলফামারী প্রতিনিধি :২৯ জুলাই-২০২০,বুধবার।
নীলফামারীর সৈয়দপুরের আলোচিত খাওয়ার হোটেল “ভোজন বিলাস” নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র্র (ওয়াপদা) এর সিকিউরিটি গার্র্ড এবং ওই হোটেলের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মমিনুল ইসলামের (৩৮) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।  ২৮ জুলাই মঙ্গলবার নীলফামারীর বিজ্ঞ আমলী আদালত-২, সৈয়দপুুর এর মোকামে মামলাটি করেছেন ওই হোটেলের বর্তমান ভাড়াটিয়া মোঃ মশিয়ার রহমান (৩৪)।
ভাড়াটিয়ার কাছে নগদ অর্থ গ্রহন করে হোটেলের অবকাঠামো ও সকল মালামালসহ মালিকানা স্বত্ব নোটারী পাবলিকে এভিডেফিটের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েও তা অস্বীকার করা ও আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এবং না দিলে জোড় পূর্বক বের করে দিতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোয় এ মামলা করা হয়েছে।
জানা  যায়, সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় অন্যের জমি লিজ নিয়ে ভোজন বিলাস নামে খাবারের হোটেল প্রতিষ্ঠা করেছেন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার জোরগাছ কুরশারপাড়া গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ মমিনুল ইসলাম। দীর্র্ঘ প্রায় ৬ বছর থেকে সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও উৎপাদন কেন্দ্রের সিকিউরিটি গার্ড পদে চাকুরী করার সূত্রে গোলাহাট ওয়াপদা গেট সংলগ্ন এলাকায় তৃতীয় বিবাহ করায় স্থানীয় লোকজনের সাথে পরিচয় ঘটে এবং অনেক পরিচিতি লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ওই জমির মালিকের  সাথে ঘনিষ্টতার কারণে চাকুরীর পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সক্ষম হন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু দিন সে নিজেই ওই হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করলেও ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ায় হোটেলের অবকাঠামোসহ যাবতীয় বাসন-কোসন ও আসাবাবপত্রের দৈনিক ৩ হাজার ৬শ’ টাকা হিসেবে ভাড়া দেন। গত ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর ৩শ’ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার সাথে এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনকালে জামানত বাবদ ৬ লাখ টাকা প্রদান করে ভাড়া নেন সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী জবানপাড়ার মোঃ জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মোঃ মশিয়ার রহমান। তারপর কয়েক মাস থেকে সফলতার সাথে হোটেল পরিচালনা করছেন তিনি। এমতাবস্থায় হঠাৎ গত মে মাসে মমিনুল ইসলাম তার পারিবারিক ও সাংসারিক প্রয়োজনে তার ভাড়া দেয়া চেয়ার, টেবিল, অবকাঠামো, বাসন-কোসন, ডেকেরেটর ও আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল বিক্রি করার প্রস্তাব দেন মশিয়ার রহমানকে। এতে সম্মত হয়ে পূর্বের ১ অক্টোবর ২০১৯ সালের চুক্তি বাতিল করে জামানতের ৬ লাখ টাকাসহ আরও ৪ লাখ টাকা নিয়ে গত ১ জুন ২০২০ তারিখে ৩শ’ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত করে তা নীলফামারী নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এভিডেফিট সম্পাদন করে মশিয়ার রহমানের কাছে ভোজন বিলাস হোটেলের মালিকানা হস্তান্তর করেন মমিনুল ইসলাম। যার রেজিষ্ট্রেশন নং- ১৩২৬/২০২০। তারপর থেকে মালিক হিসেবে হোটেল পরিচালনা করছেন মশিয়ার রহমান। কিন্তু গত ২৩  জুলাই  বৃৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে মমিনুল ইসলাম তার পূর্বের ব্যবসায়ীক পার্র্টনার জিয়ারুল  হক জিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জন লোক হোটেলে এসে উপস্থিত হয়ে এলোপাথারী ভাঙ্চুর শুরু করে এবং বলতে থাকে যে, আমি তোর কাছ থেকে কোন টাকা নেই নাই। তুই হোটেল ছেড়ে চলে যাবি, না হলে তোর লাশ ফেলে দিবো। এসময় মমিনুল তার এভিডেফিট ও চুক্তির কথা অস্বীকার করে বলে ওগুলো আমি মানিনা। এতে প্রতিবাদ করলে জিয়ারুল হক জিয়াসহ অজ্ঞাতব্যক্তিরা চেয়ার-টেবিল, বাসনপত্র  ভাংচুর এবং খাদ্য সামগ্রী নস্ট করে এবং মশিয়ার রহমানকে মারতে উদ্ধ্যত হয়। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মালামালের ক্ষতি হয়। পরে শোরগোল শুনে আশেপাশের লোকজন উপস্থিত হয়ে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। চলে যাওয়ার সময় হোটেলের বাবুর্চির হাতে থাকা ছোড়া (চাকু) কেড়ে নিয়ে হুমকি দিয়ে মমিনুল বলে যে, আমাকে আরও ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। না দিলে তোর মাথা কেটে আলাদা করে দিবো। ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত কেন দিবো এমন প্রশ্ন করা হলে সে বলে  এটা চাঁদা হিসেবে দিতে হবে। না হলে এখানে তুই ব্যবসা করে খেতে পারবিনা।
মশিয়ার রহমান জানান, এতেই খ্যান্ত হয়নি মমিনুল।  বরং ওই ঘটনা ধামাচাপা  দিয়ে উল্টো আমাকেই দোষারোপ করে প্রথমে  নীলফামারী সদর থানার  এক  এসআই কে দিয়ে আটকের  হুমকি ও  পরে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ দেয়।  কিন্তু পুলিশ আমার কাগজপত্র দেখে তার প্রতারণা বুঝতে পেরে অভিযোগ ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।  যার প্রেক্ষিতে শালিসে আমার কাগজপত্র দেখানোর পরও কাউন্সিলর ও ওয়াপদা মোড় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা জলিল আমাকে হোটেল ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছেন। তারা একতরফাভাবে আমাকে তাড়ানোর পায়তারা করছেন। তারা অন্যায়ভাবে আমাকে শুক্রবারের মধ্যে হোটের ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এতে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার আদালতে আইনী আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু তারপরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্র্শন করা হচ্ছে। প্রতারণা  করে  এভাবে মমিনুল আরও অনেকের  কাছ  থেকে  লাখ  লাখ  টাকা হাতিয়েছে। তার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা ভোজন বিলাস হোটেলের জমির মালিক পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারী চাকুুরী পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে থাকে। এই সিন্ডিকেটের হোতা হয়ে মমিনুল সামান্য সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। তার নানা অপকর্ম ঢাকতে এই সম্পর্র্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। আর অবৈধ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী পুষে তাদের দিয়ে প্রতারনার শিকার লোকজনকে দমিয়ে রাখে। যে কারণে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও সামাজিক সম্মান ও জীবনের ক্ষতির ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেনা। এর ফলে দিন দিন মমিনুলের অত্যাচার ও প্রতারণার  মাত্রা বেড়েই চলেছে এবং একের পর এক মানুুষকে সর্বশান্ত করছে সে। এ থেকে মুক্তি চায় আমার মত ভুুক্তভোগীরা। তাই প্রশাসনসহ সমাজের সচেতন ও দায়িত্বশীল  ব্যক্তিদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মশিয়ার রহমান।

সম্প্রতি সংবাদ