ব্রেকিং নিউজ

টাঙ্গাইলে বন্যায় ধ্বংসের পথে তাঁত শিল্প, দূর্বিসহ লক্ষাধিক তাঁতী’র জীবন

editor ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ঃ০৮ আগস্ট-২০২০,শনিবার।

এবারের বন্যায় ধ্বংসের পথে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প। সেই সাথে দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে এই শিল্পের সাথে জরিত লক্ষাধিক তাঁতী’র জীবন। উজান থেকে নেমে আসা পানির কারনে বন্যা পরিস্থিতি’র কিছুটা উন্নতি হলেও দূর্বিসহ জীবনযাপন করছে তাঁত কর্মচারীরা। অনেকের ঘরে খাবার নেই। কেউ কেউ বেছে নিয়েছে নৌকা চালানিসহ অন্যান্য পেশা। এ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তাদের পক্ষে কোনভাবেই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে জানান তারা। তাঁতপল্লী ঘুরে দেখা যায়, এখন আর সেই খটখটির আওয়াজ নেই,নেই কোন ব্যাস্ততা। দূর থেকে ভেষে আসছে নীরব কান্না। গত চারমাস ধরে তাঁত বন্ধ। বন্ধ রয়েছে বিকিকিনি। আয় উপার্জন সবই বন্ধ। তার উপর পরেছে আবার মরার উপর খারার ঘা। গত একমাস ধরে বন্যায় পুরো বল্লা রামপুুুর পানিতে নিমজ্জিত। হাজার হাজার হ্যান্ডলুম, পাওয়ারলুম মেশিন সবই এখন পানিতে নষ্ট হওয়ার পথে। ১৯৮৮সালের বন্যার পর শুুধু শ্রমিক নয়, তাঁতের মালিকরাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়েননি। এনজিও, ব্যাংক ঋণের কিস্তি বন্ধ থাকলেও সুদ বাড়ছে হুড়হুড় করে। গত ঈদেও তাঁত শ্রমিকের ঘরে আসেনি ঈদ আনন্দ। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে তারা আশায় বুক বেধে ছিলো হয়তোবা তাদের কপাল খুলবে কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর বাচ্চাদের নতুনকাপড় দেবেতো দূরের কথা, দু’বেলা মুখে আহার যোগার করাই যেন তাদের কাছে কষ্টকর। জেলায় দেড়লাখ তাঁতীর সাথে স¤পৃক্ত রয়েছে আরও বিভিন্ন পেশার কয়েক লাখ মানুষ। তাঁতীদের পদচারণায় যে বাজারগুলো সব সময় ছিল লোকে লোকারণ্য। এখন সেইবাজার গুলো খাখা করছে ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্যতায়। এ ব্যপারে টাঙ্গাইল আর্টিজেন ওয়েল ফেয়ার এর সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে এ শিল্পে। এই দূর্যোগ থেকে পরিত্রাণ চেয়ে তাতীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনিও তাঁতীদের সহজশর্তে ঋণ ও শ্রমিকদের প্রনোদনার আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান। বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। একদিন কোরনাও চলে যাবে, শেষ হবে বন্যা। আবার হয়তোবা শোনা যাবে খটখটের আওয়াজ কিন্তু বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির কারিগররা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্তরা। একমাত্র সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতাই পারে এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুক্তার হাসান

সম্প্রতি সংবাদ