ব্রেকিং নিউজ

ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে ধানের দাম চড়া খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিতে অনিহা কৃষকদের

editor ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:০৯ আগস্ট-২০২০,রবিবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওর হাট ও বাজারে ধান বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছে এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা। তবে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের। বিভিন্ন সমস্যার কারনে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে অনিকা প্রকাশ করছে সাধারন কৃষকরা। বর্তমানে ছামেলা মুক্ত ভাবে ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট ও বাজারে হাজার হাজার কৃষকেরা ৯শ’ ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা মন দরে ধান বিক্রি করছে। ফলে সরকারি ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হবার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হবার পরেও ধান ক্রয়ে তেমন সার সারা মিলছেনা।
উপজেলা খাদ্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে ঘিওরে ৮৯৭ মেঃ টন ধান সরাসরি কৃষকদের মাধ্যমে কেনার কথা । কৃষকদের নামের তালিকা করে ইতোমধ্যে লটারী করা হয়েছে। কৃষকদের নামের তালিকা দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করা হয়েছে। একটি মনিটরিং কমিটিও রয়েছে। এর পরেও কৃষকদের খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে তাদের মাঝে তেমন আগ্রহ নেই বললেই চলে।
ঘিওর খাদ্যগুদামে ধান পরীক্ষা নিরীক্ষা, লেবারদের উৎপাত এবং টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ছামেলার কারনে কৃষকেরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে যাচ্ছেনা। বর্তমানে ঘিওর হাটে জাত ভেদে প্রতি মন ধান ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা দরে শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা এবং শুকনা ধান বিক্রি করতে কৃষকদের কোন ধরনের ঝামেলা নেই। যদিও হাট বাজারে দামের চেয়ে সরকারি দাম কিছুটা বেশি। তার পরেও কৃষকেরা বাজারে ধান বিক্রি করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে। অনেক কৃষকরা বলেন, হাট বাজারে কাচাঁ এবং ভেজা ও শুকনা ধান বিক্রি করতে ঝামেলা নেই। টাকাও নগদ দিচ্ছে মহাজনরা। কাজেই এই অবস্থায় সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান চাল সংগ্রহে মন্দা দশা চলছে। সংগ্রহ অভিযানের প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হবার পরেও লক্ষ্য মাত্রা পূরনে অস্বিস্ত সংকটে আছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এলাকার অনেক কৃষকদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, বর্তমানে ঘিওর হাট ও বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল। ঝামেলা মুক্ত ভাবে বাজারে শুকনা, কাঁচা ধান বিক্রি হওয়ায় তারা হাটমুখি হয়েছেন। ভাল দাম পেয়ে অনেকের মুখে হাঁসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। বদলে গেছে এলাকার অনেক কৃষকদের ভাগ্যের চাকা।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নিতিশ চন্দ্র দাশ জানান, উপজেলা ধান চাল মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিজন কৃষককের কাছ থেকে লটারীর মাধ্যমে ১ টন করে ধান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এতে কৃষকরা ধান দিতে না আসায় পরে ২ টন করে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হবার পরে চলতি মৌসুমে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০৪ টন ধান ১০৪০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রানাউল করিম জানান, ঘিওরে চলতি মৌসুমে ৮৯৭ মেঃ টন ধান সংগ্রহ হবার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু খোলা হাট বাজারগুলোতে অন্যান্য বছরের চেয়ে ধানের দাম বেশি থাকার কারনে এলাকার কৃষকরা ধান দিচ্ছেনা। তাদের আগ্রহ কমে গেছে।

সম্প্রতি সংবাদ