ব্রেকিং নিউজ

নওগাঁয় প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা আসামী আটক

editor ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

এম,এ রাজ্জাক রাজশাহী ব্যুরোঃ১০ আগস্ট-২০২০,সোমবার।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের আইয়ুব হোসেনের মেয়ে রাবেয়া। অভাবের সংসার কারণে ঢাকা সাভার এলাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরী করেন। এ সুবাদে আতাউর রহমান বাবুর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। দীর্ঘতিন বছর একসঙ্গে একই ছাদের নিচে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন এবং সুলতানা নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিবাহের সময় ইসলামী শরীয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে হয় কিন্তু রাবেয়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকার কারণে, কোন কাজী তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে রাজী না হওয়ায়। রেজিস্ট্রির কাজটা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয় আতাউর রহমান বাবু। গার্মেন্টসে চাকরি করে রাবেয়া যা বেতন পেতেন তার সম্পূর্ণ টাকা সে তার স্বামী আতাউর রহমান বাবুর পকেটে চলে যেতো। তারপরও একাধিকবার স্বামী আতাউর রহমান বাবু যৌতুকের জন্য রাবেয়াকে চাপ দিতে থাকে। একদিন হঠাৎ করেই আতাউর রহমান বাবু রাবেয়া ও তার কন্যা সন্তানকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিয়ের সময় আতাউর রহমান বাবু তার নিজের পরিচয় দেয় যে, সে রংপুর জেলার জাগিরহাটের মছির উদ্দিনের ছেলে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তার বাড়ি ছিল রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানার টেমা গ্রামের সাওতাল পাড়ার জাবেদের ছেলে। স্বামী বাবু পালিয়ে যাওয়ার পরে স্ত্রী রাবেয়া খাতুন তার কন্যা সন্তান সুলতানাকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন। একসময় রাবেয়া তার কন্যা সুলতানাকে নিয়ে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার চাপড়া গ্রামে বাবার বাড়ি ফিরে আসে। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর নিকট স্বামীর সঠিক পরিচয় উপস্থাপন করতে না পারায় সকলে রাবেয়ার কন্যা সুলতানাকে রাবেয়ার ঔরসজাত অবৈধ (জারজ) সন্তান হিসেবে ধরে নেয়। বাবা-মা, গ্রামবাসী, আত্মীয়-স্বজন রাবেয়া ও তার কন্যা সন্তানকে বিভিন্ন কটুক্তি মূলক কথাবার্তার মাধ্যমে লাঞ্ছিত করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রাবিয়া এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করবে। এরপর সে শেষবারের মতো স্বামীর খোঁজে ঢাকার সেই সাভার এলাকায় যায় এবং একটি কাপড়ের দোকানে স্বামী বাবুর রেখে যাওয়া বাকি টাকা পরিশোধ করবে বিনিময়ে স্বামীর সঠিক ঠিকানা পেতে সক্ষম হয়। এরপর রাবিয়া তার কন্যা সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর মোহনপুর থানার টেমা গ্রামের জাবেদের ছেলে স্বামী আতাউর রহমান বাবুর বাড়িতে ০১/০৮/২০২০ ইং তারিখে উপস্থিত হয়। কিন্তু বাবু এবং তার পরিবার রাবেয়া ও তার কন্যা সুলতানাকে অস্বীকার করে। পরে ৭ জুলাই রাবেয়ার সঙ্গে দেখা হয় সাংবাদিক এম,এ রাজ্জাক, হাবিবুর রহমান ও মোঃ আনছার তালুকদার স্বাধীনের। রাবিয়া ও তার কন্যা সন্তানকে মোহনপুর থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোস্তাক আহমেদ এর নিকট নিয়ে যাওয়া হয় আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য। ওসি মোঃ মোস্তাক আহমেদ রাবেয়ার বয়ানের উপর ভিত্তি করে একটি মামলা দায়ের করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আসামি আতাউর রহমান (বাবু) কে আটক করেন মোহনপুর থানা পুলিশ।

সম্প্রতি সংবাদ