ব্রেকিং নিউজ

রাজবাড়ীতে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ!

editor ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি :১১ আগস্ট-২০২০,মঙ্গলবার।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের কাজ না করেই আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
সরেজমিন ,অনুসন্ধানে জানা যায়- রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর নামে বরাদ্দকৃত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে বসন্তপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ দেখানো হয়। উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিককে ম্যানেজ করে প্রকল্পের পুরো টাকাও তুলে নেন প্রকল্পের সভাপতিরা। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্প দু’টিতে কোন কাজই হয়নি।
১ নম্বর ওয়ার্ডের শায়েস্তাপুর ঈদগাহ থেকে ইসলাম মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। সেখানেও গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় এক ঝুঁড়ি মাটিও ফেলেননি প্রকল্পের সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক মুকুল। অথচ প্রকল্পের পুরো ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ইসলাম মোল্লা, বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তাটি দিয়ে আমাদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। গত এক বছরের মধ্যে এই রাস্তায় কোন কাজ তো দূরের কথা এক ঝুঁড়ি মাটিও ফেলা হয়নি। আমরা চাই দ্রুত আমাদের রাস্তাটিতে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।
অপরদিকে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ভবানীপুর গ্রামের জুবায়েরের পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ফাহিম মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের রাস্তার পাশে মাটি ফেলে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ্ওই প্রকল্পে গিয়েও দেখা যায়, রাস্তাটিতে নামে মাত্র কিছু মাটি ফেলেছেন প্রকল্পের সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহিন ফকির শাফিন। রাস্তাটিতে সর্বোচ্চ ১০-১২ হাজার টাকার মাটি ফেলা হতে পারে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর ধারণার সত্যতা মিলেছে ওই রাস্তার মাটি কাটার সরদার মো. জিন্নার কথায়। মো. জিন্নাহ জানান, গত ঈদুল আজহার ৭-৮ দিন আগে প্রকল্পের সভাপতি শাহিন ফকির শাফিন তাকে একদিনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য চুক্তি করেছিলেন। পরে তাকে দিয়ে তিন দিন কাজ করানো হয়। প্রতিদিন তার ৬ জন করে শ্রমিক রাস্তার দুই পাশে মটি ফেলে ২ ফুট করে সম্প্রসারণ এবং ময়লা পরিস্কারের কাজ করেন। এতে তিন দিনে তারা মোট ১২ হাজার টাকার কাজ করেন। এর বাইরে ওই রাস্তায় আর কোন কাজ হয়নি। অথচ এই প্রকল্পের পুরো ১ লাখ ২৯ হাজার টাকাই তুলে নিয়েছেন শাহিন ফকির শাফিন।
প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর্জা বদিউজ্জামান বাবু বলেন, টিআর প্রকল্প দু’টি আমাদের এমপি মহোদয়ের বিশেষ বরাদ্দের। এলাকাবাসী আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি সরেজমিনে প্রকল্প দু’টি পরিদর্শন করেছি। প্রকল্পের সভাপতিরা টাকা তুলে নিলেও আসলে রাস্তা দু’টিতে কোন কাজ করা হয়নি। এটি চরম একটি দুর্নীতি। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বসন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন; আমাদের ইউনিয়নে এই দুই ব্যক্তির কারণে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে তারা যেহেতু আমাদের দলেরই লোক; তাই তাদের কারণে আমাদের দলেরও বদনাম হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাঈদুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিলো না। আমি বিষয়টি তদন্ত করবো। যদি প্রকল্পের সভাপতিরা রাস্তায় কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক বিশ্বাস বলেন, আমিনুল হক মুকুল কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আগামী ৭ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দিবেন বলে আমার কাছে সময় চেয়েছেন। শাহিন ফকির শাফিনের প্রকল্পের কাজও যাতে শতভাগ সম্পন্ন করা হয় এ জন্য উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিক বলেন, আমি আমিনুল হক মুকুল ও শাহিন ফকির শাফিনকে ডেকেছিলাম। তারা রাস্তার কাজ সম্পন্ন করে দিবেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে কিভাবে টাকা তোলা হলো এসব প্রশ্নের কোন উত্তরই দিতে পারেননি উপজেলা সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার প্রামাণিক।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমিনুল হক মুকুলের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। শাহিন ফকির শাফিনের মোবাইলে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিঃদ্রঃ মেইলে ছবি আছে।
ছবির ক্যাপশনঃ বসন্তপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওর্য়াডের শায়েস্তাপুর হতে ইসলাম মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ না করেই টাকা আত্নসাৎকরা হয়েছে। ছবিটি সোমবার বিকেলে তোলা।
আবুল হোসেন
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
১১.০৮.২০২০

সম্প্রতি সংবাদ