ব্রেকিং নিউজ

টেকনাফে মেজর (অবঃ) সিন্হা হত্যার গণশুনানী অনুষ্ঠিত

editor ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

  মুহাম্মদ জুবাইর টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:১৬ আগস্ট-২০২০,রবিবার।
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান পুলিশের গুলতে নিহতের ঘটনায় টেকনাফে উপক’লীয় ইউনিয়ন বাহার ছড়া শামলাপুর এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির গণশুনানি শেষ হয়েছে।
শুনানিতে নয়জন সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ৬০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার আশা করছে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান। সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিতে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জের কার্যালয়ে গণশুনানি গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। গণশুনানি শেষে বিকেল ৫টার পর তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশা করছি আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।
১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় গণশুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাহারছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে ১১ জন শুনানিতে অংশ নেন। তাদেরকে গণশুনানীর নির্দিষ্ট কক্ষে নিয়ে নেয় তদন্ত দল। তাদের কাছ থেকে তদন্তকারী দলের সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের নাম- পরিচয় জানায়নি তদন্তদল।
জানা গেছে- গত ৩১ জুলাই শামলাপুর মেরিন ড্রাইভের পুলিশের চেকপোস্টে সিনহা নিহত হয়েছে সেই সময় বিভিন্নভাবে যেসব প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তারা সাক্ষী প্রদান করেছে। এ চেকপোস্টের পাশাপাশি অবস্থিত হেফজখানার কয়েকজন শিক্ষার্থী যারা মসজিদের ছাঁদ থেকে সেইদিনের সংঘঠিত ঘটনা দেখেছে সেটার বর্ননা প্রদান করেন গণমাধ্যমের কাছে।
গণশুনানী উপলক্ষে মেরিন ড্রাইভের লাগোয়া সকাল থেকেই কড়া র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা এখানে অবস্থান নেন।
শুনানীতে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লে. কর্ণেল সাজ্জাদ, চট্টগ্রামের ডিআইজি’র মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলি উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে তদন্তদলের প্রধান সাংবাদিদের জানান- গত ৩ আগস্ট থেকে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আজকে ১১ জন নিবন্ধন হলেও ৯ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে এবং ২ জনকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রাখা হয়েছে। এদিকে গণশুনানিকে কেন্দ্র করে শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ের আশপাশে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ গণমাধ্যমকর্মীও ছিলেন । আশপাশে তাদের যাতায়াত অবাধ থাকলেও শুনানী কক্ষে গণমাধ্যমের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিনহা হত্যাকান্ডে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করছেন তারা। এর মাঝে এ হত্যাকান্ড পরিকল্পিত কিনা, নাকি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেছে। কার নির্দেশে সিনহাকে গুলি করেছিলেন লিয়াকত। ঘটনার সময় আদৌ সিনহার হাতে অস্ত্র ছিল কি না, এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, এসব প্রশ্নের জবাব মিললেই ঘটনার সবকিছু স্পষ্ট হবে।
এর আগে ১২ আগস্ট তদন্ত কমিটির সদস্য কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে তিনি বলেন, ৩১ জুলাই আনুমানিক রাত ৯টায় পুলিশের গুলিবর্ষণে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি গণশুনানির আয়োজন করেছে।
গত শুক্রবার সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্বভার পেয়েছেন। এর আগে মামলাটি তদন্ত করেন সহকারী পুলিশ সুপার জামিলুল হক।
সিনহা হত্যা মামলার আসামি চার পুলিশসহ সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে র‌্যাবের একটি গাড়ি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে সাত আসামিকে নিয়ে যায়।
আসামিরা হলেন- কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া এবং পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের মারিশবনিয়া গ্রামের মো. আয়াস, নুরুল আমিন ও নাজিম উদ্দিন।
গত বুধবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৩ জুলাই সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নুর কক্সবাজার আসেন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।###
 

সম্প্রতি সংবাদ