মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে পাটেরভালো দাম পেয়ে কৃষকের চোখে মুখে হাঁসির ঝিলিক

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু  ,স্টাফ রিপোর্টার :১৭ আগস্ট-২০২০,সোমবার।
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় সোনালি আঁশখ্যাত পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার পাটের দাম ভাল পেয়ে এলাকার কৃষকদের চোখে মুখে হাঁিস ফুটেছে। শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং জলাশয়গুলোতে উপযোগী পানি থাকায় পাট জাগে উপকৃত হয়েছে চাষিরা। মানিকগঞ্জের হাট বাজারে শুরুতে নতুন পাট বিক্রি করে বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকদের মধ্যে উৎসব ও আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে এসেছে পাট শিল্পে। পাট শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় পাট উৎপাদন ও পলিথিন সিন্ডিকেটের পরিবর্তে পাটের পন্য ব্যবহারের প্রতি পাটের গুরুত্বরোপ করে আইন পাস করেছে বর্তমান সরকার। ফলে দেশের উৎপাদিত সার, চিনি,সিমেন্ট ও ফসলের বীজ সহ বিভিন্ন পন্য সামগ্রী বাজারজাত করতে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ইতোমধ্যে আইন পাস করা হয়েছে। বর্তমান সরকার পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে বদ্ধ পরিকর। ভাল দাম পাওয়ায় এবার পাট কাটা,জাগ দেওয়া,আঁশ ছাড়ানো,শুকানো এবং গ্রামীন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এ আশায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর,দৌলতপুর,শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর, হরিরামপুর, সাটুরিয়াতে পাট চাষের সাথে জড়িত হাজার – হাজার কৃষক। পাটের সোনালী অতীত এখন কেবলই ইতিহাস। এবার পুরাতন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার লড়াই করেছেন কৃষকরা। তাও আশা নিরাশার দোলাচলে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পাটের আবাদ করেন এলাকার সাধারন কৃষকরা। রোদ বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান সাধারন কৃষকরা। তারা সবুজ পাটকে রুপান্তরিত করে সোনালী বর্ণে। পাট চাষের আগ্রহ বাড়াতে এবং সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফেরাতে সরকারি ভাবে দাম বেঁধে দেয়ার দাবি করেন অধিকাংশ কৃষকরা।

মানিকগঞ্জে এক সময় দেশের প্রথম অর্থকরি ফসল সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের আবাদ হতো। হাজার- হাজার মন পাট জেলার বৃহত্তম ঘিওর, বরংগাইলে, তরা, ঝিটকা ও সাটুরিয়া হাটে কেনা বেচা হচ্ছে। গ্রামীন জনপদে পাটের মান অত্যন্ত ভাল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা ছিল অনেক। মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার হাটবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফরিয়ারা পাট ক্রয় করে নারায়নগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাট চালান দিত। এক কথায় মানিকগঞ্জের পাটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। এ অঞ্চলের জলবায়ু পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নদী, নালা, খাল, বিলের পানিতে পাট জাগ দেয়া, পাটের আশ এবং রং ভাল হওয়ায় তুলনামুলক পাটের চাহিদা ভালো। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে ঘিওর-দৌলতপুর পাটের দাম তুলনামুলক প্রতিমনে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি। বিগত বছর গুলোতে পাট আবাদে সার,বীজ,কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত খরচ বৃদ্ধি সেই সাথে উৎপাদিত পাটের বাজারে ভাল দর না পাওয়ায় সাধারন কৃষকেরা পাটের আবাদ ভুলতে বসেছিল। বর্তমান সরকার দেশে পাটের ব্যবহার নিশ্চিত ও আবাদের প্রতি গুরুত্ব দেয়ায় পাটের বাজার দর ভালো অবস্থানে পৌছেছে। তাই এলাকায় পাট চাষীরা চলতি বছরে পাটের আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের পাট চাষি আজাহার জানান, এবার ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে জো আসার সাথেই বীজ রোপণ করেছিলাম। মাটিতে জো আসায় চারাগুলো ভালো হয়। নিড়ানী,পরিচর্জা করায় পাটের চেহারা ভালো হয়। নিড়ানী,আগাছা দমন, সার,বীজ, কীটনাশক,কীটনাশক,পাট কাটা, ধুয়া সহ প্রতি বিঘা পাটে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা পাটের বাজার মূল্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। গত বছর পাট চাষ করে ভাল বাজার দর পেয়েছিলাম। তাই এবারও আবাদ করেছি। আশা করছি এবারো বাজার দর ভাল পাব। তবে বাজার দর এভাবে থাকলে পুরোনো সুনাম ঐতিহ্য ঘুরে আসবে পাট চাষিদের।
বাজারের পাট ব্যবসায়ী শামসুল আলম খান, রতন সাহা, মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমন দেশী পাট ১হাজার ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা এবং তোষা পাট ২ হাজার ২শ’ থেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকা বিক্রয় হচ্ছে।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ভাল হয়েছে। পাটের বর্তমান বাজার দর ও বিভিন্ন মিলে চাহিদা থাকায় চাষীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। বাজার দর এভাবে থাকলে পাট চাষে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সার, চাল, চিনি,সিমেন্ট, ফসলের বীজ সহ বিভিন্ন পন্য বাজারজাত করনের জন্য পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় এবং পাট চাষের উপর গুরত্ব আরোপ করায় বর্তমানে পাটের চাহিদা তুলনামূলোক বেড়ে গেছে। পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অজর্নে সক্ষম হবে। সরকারি ভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্র গুলো চালু হলে এলাকার হাজার-হাজার কৃষকদের অনেক উপকার হবে।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ- পরিচালক (খামারবাড়ি) মোঃ শাহাজাহান আলী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে চলতি মৌসুমে দেশী পাট ৫৫০হেক্টর এবং তোষা ৩ হাজার ১শ’ ১৮ হেক্টর ক্রানাপ ১৫ হেক্টর জমিদে আবাদ হয়েছে। তবে মোট লক্ষ মাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬শ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৬শ’ ৬ হেক্টার। গত বছর আবাদ হয়েছে মোট ৩ হাজার ৪শ’ ৪৮ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯শ’ ৫৮ হেক্টর । তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া পরিবেশ অনুকুলে থাকার গত বছরের চেয়ে এবার পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষকরাও ভাল দাম পাচ্ছে।

রামপ্রসাদ সরকার দীপু

সম্প্রতি সংবাদ