ঘিওরে ইছামতীতে বাশেঁর সাকোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল । ১০ গ্রামের জনগনের দুর্ভোগ চরমে

editor ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু,  স্টাফ রিপোর্টার:১৮ আগস্ট-২০২০,মঙ্গলবার।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা ইছামতি নদীর উপর নির্মিত সেতুটি ধ্বসে গেছে। কয়েক বছরের বন্যায় সেতুটির দু’ পাশের মারাত্নক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এলাকার লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর উপরে বাঁশের সাকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। দীর্ঘ ১৮টি বছরেও সেতুটি মেরামত না করায় তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের ৬০ হাজার লোকজনকে ধ্বসে যাওয়া সেতুটির উপরে বাশেঁর সাকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা এলজিইডি ২০০২ সালে ইছামতি নদীর উপর প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মান করে। গত কয়েক বছর যাবৎ ইছামতী নদীর ভাঙ্গনে সেতুটির পশ্চিম পাশের সম্পূর্ন অংশ নদীতে বিলিন হয়ে যায়। এবং পূর্ব পাশের দুইটি পাটাতন ধ্বসে যায়। ফলে, এলাকার লোকজন যাতায়াতের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ সেতুটির উপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোন রকম যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। প্রতি দিন কুস্তা, ঠাকুরকান্দি, ভররা, বিনোদপুর, খলসী, কুমুরিয়া, বনগাঁও, নারচি, ও জিয়নপুর ইউনিয়নসহ ১০টি গ্রামের শত শত লোকজন এই সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীদের পণ্য সামগ্রী আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অধিক ভাড়া ব্যয় করতে হচ্ছে। কোন ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারেনা। বন্যার সময় স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার বহু লোকজনের দুঃখ কষ্টের সীমা থাকেনা। নদীর প্রচন্ড স্রোতের কারনে প্রতি বছর বহু বাড়ি ঘড় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। গত বছর ১২টি বাড়ি এবং সেতুটির পশ্চিম পাশের অংশ নদীতে বিলিন হয়ে যায়। বাপ, দাদাদের বসত বাড়ি নিয়ে নদীর পাশর্^বর্তী লোকজন বন্যার সময় আংর্তকে মধ্যে দিন কাটায়।
উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধাক্ষ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান খান জানান, এই সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন ১০টি গ্রামের বহু লোকজন যাতায়াত করে। কয়েক বছরের বন্যায় আমাদের সেতুটি সম্পূর্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোন রকম যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে,দ্রুত নতুন সেতু নির্মান করা প্রয়োজন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, আমি সেতুটি নির্মানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে কয়েক দফায় আলাপ করেছি। তবে রহস্যজনক কারনে সেতুটি নির্মান করা হচ্ছেনা। তবে প্রায় ১০টি গ্রামের শত শত জনসাধারন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করছে। তবে যে কোন সময় বড় ধরনের দুঃর্ঘটনার আশংকা করছে এলাকার লোকজন।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাকুর রহমান জানান, আমি সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্থ সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সয়েল টেষ্টসহ সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে বন্যার পানি আসায় এ বছর সেতুটি নির্মানের প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বন্যার পরে দ্রুত সেতুটি নির্মানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এলাকার অভিজ্ঞ মহল,সাধারন লোকজন এবং সুশিল সমাজের প্রতিনিধিগন অবিলম্বে সেতুটি নির্মানের জন্য উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

সম্প্রতি সংবাদ