মানিকগঞ্জে প্রযুক্তির চাপে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ষ্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৪ অঅগস্ট-২০২০
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় প্রযুক্তির চাপে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প। এ পেশার সাথে জরিত প্রায় দেড় হাজার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাঁশের পরে বেতের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে জীবন জীবিকার অন্যতম বাহক হিসাবে তাদের অনেক কদর ছিল। বাজারে প্লাস্টিক ও এলোম্যানিয়াম এবং আধুনিকতার ছোয়া, উন্নত প্রযুক্তির কাছে বেত শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা একেবারে কমে গেছে। ফলে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাচ্ছে এ দেশ থেকে।
মানিকগঞ্জের ঘিওর,শিবালয়,দৌলতপুর, সাটুরিয়া, সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ভোরের নীরবতা ভেঙ্গে পাড়া, মহল্লা ঘুরে বেতের তৈরি কারিগররা বাঁশ ও বেত ঝোপ কিনতো। কাস্তে দড়ি, হাতে নিয়ে তার সারা দিন ঘুরে বেড়াতো গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি বাড়ি। বেত ঝোপ চুক্তিতে কিনে তারা সারা দিন বেত ছাড়িয়ে বাড়ি যেত। বেত পানিতে জাগ দিয়ে রাখতো ১০ থেকে ১৫ দিন। পরে বাড়িতে বসে মনের সুখে তারা বেতের তৈরি পণ্য তৈরি করতো। কিন্তু এখন আর চোখে পরেনা। কালের আর্বতনে হাড়িয়ে যাচ্ছে সকল বেত শিল্পের নানা পন্য সামগ্রী। আর এ পেশার সাথে জরিত লোকজনের ভাগ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।
ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ঋষিপড়া গ্রামের প্রবীন বেত শিল্পী চন্দ্র সরকার (৭২), সুনিল সরকার, লক্ষন সরকার, সুকুমার সরকার, চিনু রানী, দুর্গা রানী,সুবল সরকার সাংবাদিকদের জানান, বহু কষ্ট, দুঃখ করে বাপ দাদাদের পৈতিক পেশাটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বেতের অভাব,সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকার কারনে বেত শিল্পের সাথে জরিত কারিগররা তাদের পৈতিক পেশা টিকিয়ে রাখতে পারছেনা।
৭০/৮০ দশকে বেতের তৈরি ধামা, কাঠা,দাড়িপাল্লা, কাঠি, পাটি, সেড়, দোলনাসহ বিভিন্ ধরনের খেলনা ঘিওর ,বরংগাইল তরা , মহাদেবপুর সহ সিংগাইর, সাটুরিয়ার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রচুর বিক্রি হতো। বিভিন্ন মেলাতেও বেতের তৈরি দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে প্লাটিক, এলোমোনিয়াম,সিলভার, এবং কাঁচের তৈরি জিনিসের কাছে হেরে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্পটি। এ পেশার সাথে জড়িত শিল্পীরা বেতের তৈরি জিনিসপত্র এখন আর তৈরি করতে চায়না। তারা হতাশ হয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অন্য পেশায়। এ পেশার সাথে জড়িত অনেকে দুঃখ করে বলেন,বেতের কাজ ও কুটির শিল্পের অন্তভুক্ত করা হলেও বিসিক কিংবা সংশ্লিস্ট কোনো সংস্থা এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন ভুমিকা রাখছেনা।
তবে এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি এ পেশার সাথে জড়িত লোকজনকে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, বাঁশ বেতের চাষাবাদের ব্যবস্থাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দিলে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন ঘটবে। তাহলেই এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তা না হলে অচিরেই হাড়িয়ে যাবে এই ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পটি।
ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, ৮০/৯০ দশকের বাঁশ ও বেতের প্রচুর চাহিদা ছিল এবং বাঁশ বেতের ঝোপ ঝার গ্রামাঞ্চলে অনেক চোখে পড়তো। বর্তমানে এখন আর সেই বাঁশ ও বেত ঝাড় নেই বলনেই চলে। তবে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রচুর পরিমানে বাঁশ ও বেত রোপনে ব্যবস্থা করতে হবে। তা হলেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সাথে জড়িত লোকজনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে আমার মনে হয়।

সম্প্রতি সংবাদ