ব্রেকিং নিউজ

ইছামতী নদীর ভাঙ্গনে ঘিওর গরু হাট ও কুস্তা কফিল উদ্দিন দরজী উচ্চ বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে

editor ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার ঃ ২৬আগস্ট-২০২০,বুধবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ইছামতী ধলেশ^রী ও কালিগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধির পাবার ফলে নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। তিনটি নদীর ভাঙ্গনে দেড় শতাধিক বাড়ি ঘড়,বহু ফসলি জমি বিলিন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে বহু বাড়িঘড়, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ইছামতী নদীর ভাঙ্গনে কুস্তা কফিল উদ্দিন দরজী উচ্চ বিদ্যালয়, ঘিওরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর গরু হাট অর্ধেক বিলিন হয়ে গেছে, কুস্তা ব্রীজ, ঘিওর- গোলাপনগরের রাস্তা, বেপারীপাড়া কবরস্থান, রসুলপুলরপুর গ্রাম, কুস্তা কবরস্থানটি হুমুকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ধলেশ^রী নদীর ভাঙ্গনে শ্রীধর নগর, কুস্তা, মাইলাগী, ঘিওর পূর্বপাড়া গ্রামটি, ঘিওর নদীর উত্তর পারের বাজার এবং ব্রীজসহ ১২/১৩টি প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্যে রয়েছে। ঘিওর- মাইলাগী সড়কের পূর্বপাড়া গ্রামটি ধলেশ^রী নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে গ্রামটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। গত বছরেও পূর্বপাড়া গ্রামের বহু বাড়িঘড় ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
ঘিওর বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও পূর্বপাড়া গ্রামের এ কে এম সারোয়ার কিরন খান সাংবাদিকদের জানান , প্রতি বছর ধলেশ^রী নদীর ভাঙ্গনে আমাদের এখানকার বাড়ি ঘড়, ফসলি জমি বিলিন হয়ে যাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিত্বে রাস্তা এবং গ্রামটি রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে নদীতে বিলিন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর দিকে, কালিগঙ্গা নদীর ভাঙ্গনে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এর মধ্যে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত বসতবাড়ি, প্রায় ১ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রারাসা ও ঈদগাহ মাঠসহ ২ শতাধিক বসতভিটা, একটি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা,এতিমখানা, ১টিব্রীজ, বাজার, রাস্তাসহ বিস্তীর্ন ফসলি জমি ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে।। নদীর তীরে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে ভিটামাটি হারা মানুষের সারি। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে কালীগঙ্গা নদীর তীর। বানিয়াজুরি ইউনিয়নের পূর্ব কুমুল্লি, কেল্লা, নকিববাড়ি, জাবরা, তরা, উত্তর তরা, এলাকার লোকজনের দিন কাটে ভাঙ্গনের শব্দশুনে। কালীগঙ্গা নদীর ভাঙ্গনের হুমকির মধ্যে রয়েছে ১০/১২ প্রতিষ্ঠাসহ বহু বাড়িঘড়। ভাঙ্গনের স্বীকার এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের পরিবার পরিজন ঘড়বাড়ি, জিনিসপত্র নৌকা যোগে অন্যত্র সড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার নিজের ভিটামাটি হাড়িয়ে অন্যের জমির উপরে বাড়িঘড় জিনিসপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
ঘিওর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম মিন্টু জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমানে সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে ঘিওরে ভাঙ্গন একটি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এ ব্যাপারে অবগত আছেন। খুব দ্রæত তিনি ভাঙ্গন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, আমি ইতোমধ্যে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি । ভাঙ্গন রোধে দ্রæত পয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এবং ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের নগদ অর্থসহ প্রচুর পরিমানে ত্রান সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি সংবাদ